25657

04/04/2025 বহিরাগতদের নিয়ে রাবির প্রশাসন ভবনে তালা দিলেন সমন্বয়ক সালাউদ্দিন

বহিরাগতদের নিয়ে রাবির প্রশাসন ভবনে তালা দিলেন সমন্বয়ক সালাউদ্দিন

রাবি প্রতিনিধি:

২ জানুয়ারী ২০২৫ ১৬:২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে সকাল থেকেই আন্দোলন নেমেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে দুই উপ-উপাচার্যসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। ফলে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কামরুজ্জামান কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত বিভা, বারিন্দ মেডিকেল কলেজের মাহফুজা রাহাত, বেলপুকুর কলেজ সুস্মিতা, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্মী, আদর্শ অনার্স ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শুভ্র ও রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিমসহ প্রায় ৩০জন বহিরাগত শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে অংশ নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ১% কোটা রাখায় আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। এদিকে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না। সালাউদ্দিন আম্মার একাই নেতৃত্ব দিচ্ছে এ আন্দোলনের। এখানে অন্যান্য সমন্বয়করাও নেই, কোন শিক্ষার্থীদের সাথে পরামর্শ না করেই অযৌক্তিক আন্দোলন করছেন তারা।

এর আগে, আগামীকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির জরুরি সভায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সন্তানদের ১% কোটা বরাদ্দ রেখে বাকি ৪% কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাবি প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রাবির অধিকাংশ সমন্বয়ক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার ১% কোটাও বাতিল করতে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রশাসনকে।

ফলে আজ সকাল১০টা থেকে প্রশাসন ভবনে তালা মেরে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া বহিরাগত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি বলে লক্ষ করা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৭জন সমন্বয়কের মধ্যে সালাউদ্দিন আম্মার একাই পোষ্য কোটা বাতিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

এর আগেও, পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচির আয়োজন করেন সালাউদ্দিন আম্মার। এ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেন শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে, আগামীকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০-৩০জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিে আগামীকাল থেকে একইরকম পোস্ট করতে দেখা যায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, আগামীতে রাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে পোষ্য কোটা বাতিলের এ আন্দোলন করছেন তারা।

আন্দোলনে অংশ নেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী উর্মি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা পোষ্য কোটা পেয়ে স্বল্প মার্কস পেয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে যেটি আমরা পাইনি। আমাদের ছোট-ভাইবোনদের সাথে এই বৈষম্য যেন না হয় সেই দাবি নিয়ে আমি এসেছি।

বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনের সমন্বয়কারী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, এখানে অবস্থানরত বহিরাগত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ভর্তি পরিক্ষার্থী এবং যারা এর বাইরের আছেন তারা নিজেদের ছোট ভাই বোনদের জন্য পোষ্যকোটা না রাখার ও ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে সংহতি জানাতে এসেছেন।

অবরুদ্ধ অবস্থায় রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, 'তাপসী রাবেয়া হলের একজন নারী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে প্রশাসনিক ভবনে এসে আটকে গেছেন। খবর এসেছে তার বৃদ্ধা মা সংকটাপন্ন অবস্থায়। তাকে বের হতে দেয়া হচ্ছেনা। একজন ডায়াবেটিক রোগীর খাবার ঢুকতে দেয়নি। আমি সালাহউদ্দিন আম্মারকে উক্ত কর্মকর্তাকে বের হতে দেবার অনুরোধ করলে সে বের হতে দিবেনা বলে ফোন রেখে দিয়েছে। আমি এই ধরনের অমানবিক আচরণ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যের নাগরিক অধিকার খর্ব করে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আমরা অনেক উদ্বিগ্ন রয়েছি। আমরা অনেকটা চেষ্টা করে কোটার পার্সেন্টেজ অনেকটা কমিয়ে নিয়ে এসেছি, তবে সেটা শুধু এ বছরের জন্য। আগামী বছর থেকে তাদের বেতন স্কিল যদি বাড়ে তাহলে এই কোটা পুরোপুরি বাতিল হবে বলে মনে করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যতটা কমিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এর চেয়ে বেশি রয়েছে। আমরা মনে করছি একটি সমাধানের পথে আমরা চলে এসেছিলাম কিন্তু শিক্ষার্থীরা কেনো যে এমনটা করছে এটা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, এভাবে ভিতরে শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে রেখে কোন আন্দোলন হতে পারে না। আমি মনে করি শান্তিপূর্ণ একটি সমাধানে আসা যেত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]