04/04/2025 ইবিতে অদক্ষ চালক দিয়ে চলছে ভাড়া করা বাস, হুমকির মুখে শিক্ষার্থীদের জীবন
ইবি প্রতিনিধি:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:০২
কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থীবাহী ভাড়ায় চালিত একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী বিত্তিপাড়া এলাকায় রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যায় বাসটি। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল, ইবি চিকিৎসা কেন্দ্র ও বাজার সংলগ্ন ডিনপেনসারিগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় পতিত ওই বাসটিতে মোট ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিলেন।
এদিকে চালকের অদক্ষতা ও অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের। তারা জানান, এই বাসের চালক সবসময়ই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালায়। আজকেও অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানোর কারণে ওভারটেক করতে গিয়ে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দুর্ঘটনা ঘটে।
একইসঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীবহনকারী ফিটনেসবিহীন সকল বাস ও অদক্ষ চালকদের অপসারণের দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অনতিবিলম্বে ইবির পরিবহন পুল থেকে ফিটনেসবিহীন সকল বাস অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে নতুন বাস, দক্ষ চালক এবং কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে রাত সাড়ে ৯টায় প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে দুপুরে দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাংগীর আলম আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে যান। এছাড়া শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে গাড়ি রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে ৫২ আসনের নন এসি বাস ১৩টি, দ্বিতল বাস ১টি, এসি বাস ১টি, ৩০ আসনের এসি কোস্টার ৭টি, নন-এসি মিনিবাস ৫টি, হায়েস এসি মাইক্রো ৫টি, জীপ ৭টি, কার ৩টি, পিক-আপ ২টি এবং অ্যাম্বুলেন্স ২টি। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ভাড়াকৃত ৯টি দ্বিতল বাসসহ মোট ৩২টি বাস-মিনিবাস রয়েছে। ভাড়াকৃত বাসের মধ্যে কুষ্টিয়ায় ১০টি, ঝিনাইদহে ৯টি এবং শৈলকূপায় চারটি বাস চলাচল করে বলে জানিয়েছে পরিবহন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল খায়ের।
এদিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই গাড়ির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান বলেন, গাড়ির ফিটনেস ও ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়ে পরিবহন দপ্তরে কোনো ডকুমেন্টস নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়ি সরবরাহের জন্য ‘ওয়াসিস ট্রেডিং এজেন্সি’র সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চুক্তিবদ্ধ। এ বিষয়ে ‘ওয়াসিস ট্রেডিং এজেন্সি’র এক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সুহাইল গাড়ি সব কাগজপত্র ঠিক আছে। ড্রাইভারের লাইসেন্সও আছে। তবে রাস্তা খারাপ এবং রাস্তায় বিভিন্ন ভ্যান, ট্রাক থাকায় ড্রাইভার হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ বলেন, ফিটনেসবিহীন বাসগুলো সব শিক্ষার্থীদের জন্য। আর তার চালকরাও অদক্ষ। ভাড়া করা বাসগুলোর গতির কোনো লাগাম নেই, নিজেদের ইচ্ছে মতো গাড়ি চালায়।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, ইবি শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় এবং বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক সেই প্রার্থনা করি। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য ফিটনেস গাড়ি ও দক্ষ চালক নিশ্চিত করা অতিব জরুরি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবির সহ-সমন্বয়ক ইয়াশিরুল কবির সৌরভ বলেন, অনতিলম্বে ইবির পরিবহন পুল থেকে ফিটনেসবিহীন সব বাস অপসারণ করতে হবে ও অদক্ষ চালকদের ছাঁটাই করতে হবে।
একইসঙ্গে বাস চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক। এই সড়কে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলোরও বেহাল দশা। প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। এজন্য অনতিবিলম্বে এই মহাসড়কের সংস্কার করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, অনতিলম্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল থেকে ফিটনেসবিহীন সব বাস অপসারণ করতে হবে। এছাড়া গাড়ির চালক ও হেলপার নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে আসার পথে মহাসড়কের যেসব স্থানে বেহাল অবস্থা আছে তা দ্রুত সংস্কার করতে হবে।