29682

01/21/2026 বাংলাদেশের ক্ষমতায় কি জামায়াত আসছে?

বাংলাদেশের ক্ষমতায় কি জামায়াত আসছে?

রাজটাইমস ডেস্ক: 

২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৫০

ফরিদপুর জেলার ৪৫ বছর বয়সী ব্যাংকার আব্দুর রাজ্জাক জীবনে প্রথমবারের মতো মনে করছেন, তিনি যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন তা পরবর্তী ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার শহরে জামায়াতে ইসলামী দলের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য প্রচারণা চালাতে গিয়ে আ. রাজ্জাক যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা জামায়াতের পক্ষে তাদের মতামতের কথা জানিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ হচ্ছে- বিশ্বের অষ্টম-বৃহৎ জনবহুল দেশ, যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল, সেখানে এবার ইসলামী দলটিকেই ক্ষমতায় দেখতে চান অনেকে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত দেশের বৃহত্তম মুসলিম দল জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারত পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এটিই প্রথম ভোট।

অভ্যুত্থানের পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচন এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতের তৈরি জাতীয় নাগরিক দল এনসিপির সঙ্গে একটি নির্বাচনী জোটের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এবারের নির্বাচনে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলি আ. রাজ্জাকের আস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে জামায়াত তার কয়েক দশকের পুরোনো জোটের অংশীদার বিএনপির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা যায়- বিএনপির সমর্থন ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে জামায়াত ২৯ শতাংশের কাছাকাছি। গত সপ্তাহে বাংলাদেশি সংস্থা - ন্যারাটিভ প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) এবং জাগরণ ফাউন্ডেশন - দ্বারা পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা গেছে যে বিএনপির সমর্থন ৩৪.৭ শতাংশে এগিয়ে এবং জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশে।

যদি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হতে সক্ষম হয়, তাহলে শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের সরকারের সময় যে দলটি নির্মম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল, তার জন্য এটি একটি নাটকীয় পরিবর্তন হবে।

স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে এর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়ে ছিলেন। এ সময় কাউকে জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং হাজারো নেতাকর্মীকে গুম বা হেফাজতে হত্যা করা হয়েছিল।

বর্তমানে ভারতে পলাতক হাসিনা ২০১০ সালে বিতর্কিত আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে সন্দেহভাজনদের বিচারের নামে দমন-পীড়ন করেছেন।

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, একই ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৭৮ বছর বয়সী হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, কারণ তিনি ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতে নির্বাসিত আছেন, যেখানে তিনি বিদ্রোহের পর পালিয়ে গিয়েছিলেন। ইউনূস প্রশাসনের একাধিক আবেদন সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি এখন পর্যন্ত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]