29914

02/20/2026 রমজানে নিত্যপণ্যের দামে আগুন ॥ নাজেহাল নগরবাসী

রমজানে নিত্যপণ্যের দামে আগুন ॥ নাজেহাল নগরবাসী

শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৮

পবিত্র রমজানে রাজশাহীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চরম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে লেবু, কাঁচামরিচ, শসা, টমেটো, বেগুন ও খেজুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে বিক্রী করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের বৃদ্ধিতে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। সবথেকে দুর্বিসহ জীবন পার করছেন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার গুলো।

রাজশাহীর বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ২-৩ দিনের ব্যবধানে লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসময় প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে তা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোন কোন বাজারে লেবু ৮০ থেকে ১’শ টাকা হালিতেও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের ইফতারকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারদর তুলনা করে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রী হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত। শসা প্রতি কেজি বিক্রী হয়েছে ৫০-৭০ টাকা এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ৬০-৭০ টাকার বেগুন বিক্রী হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, খেজুর কেজিতে ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাবসায়ীরা দাবী করছেন, পাইকারি বাজারে দর বাড়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা পর্যায়ে পড়ছে। কোন কোন ব্যবসায়ী বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শীতকালীন সবজির দামও বেড়েছে।

সাহেববাজারের এক ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও যে বাজার এক হাজার টাকায় হতো, এখন তা করতে দেড় হাজার টাকা লাগছে।” একজন নিম্নআয়ের চাকরিজীবী খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ তুলে বলেন, “রমজান এলেই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে এ অবস্থা চলতেই থাকবে।” এছাড়া বাজারে চিনি ১’শ টাকা আর মুড়ির দাম ওঠেছে ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল সোয়াবিন প্রতি লিটারে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯৭ টাকা, পাম ওয়েল প্রতি লিটারে একটাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকা, পেঁয়াজ প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (আমদানিকৃত) প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা, দেশি রসুন প্রতিকেজিতে ৫০-৪৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা, আদা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, বয়লার মুরগি প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়, দেশি মুরগি প্রতিকেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকা, কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শশা প্রতি কেজি ৮০, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। অপরদিকে বিপুল পরিমাণ নতুন আলু আমদানি হলেও দাম কমেনি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। শনিবার নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে। ভরা মৌসুমেও একটি ফুলকপির দাম ৬০ টাকা ও বাঁধাকপি ৫৫ টাকা। শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। মাঝারি আকারের লাউ ৬০ টাকা। করলা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে রাজশাহীর বাজারে মাছের দাম আগের মতোই আছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ৩’শ টাকা, সিলভারকার্প ২৫০ টাকা, বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বেড়েছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা করে। এছাড়া দেশি মুরগি ৪৮০ টাকা থেকে ৫’শ টাকা, সাদা লেয়ার ২৫০ টাকা, পাতিহাঁস ৪২০ টাকা, রাজহাঁস ৬০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে হটাৎ করেই রমজানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা হতভম্ব। তারা দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল নিয়ে চলছে অস্থিরতা। মিল থেকে প্রয়োজনীয় তেল দেয়া হচ্ছে না ব্যবসায়িদের। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, রাজশাহীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি ও স্বচ্ছ দরতালিকা প্রকাশ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে মনে করছেন। পবিত্র রমজান উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজশাহী মহানগরীতে খোলা ট্রাকে সর্বসাধারণের জন্য টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের ১৫ টি ট্রাকে ৬০০০ পরিবারকে প্রতিদিন নিম্নোক্ত পণ্য দেয়া হচ্ছে ২ কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ২ লিটার ভোজ্যতেল ২৩০ টাকা, ১ কেজি চিনি ৮০ টাকা, ১ কেজি ছোলা ৬০ টাকা, হাফ কেজি খেজুর ৮০ টাকা যার প্যাকেজ মূল্য ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিলারগণ সকাল ১১ টার মধ্যে পণ্য বিক্রয়ের স্থানে পৌঁছে ট্যাগ অফিসার/ওয়ার্ড সচিবদের উপস্থিতিতে পন্য বিক্রি করা হচ্ছে।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]