29961

02/26/2026 পাসপোর্টের ‘দালাল’ নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাসপোর্টের ‘দালাল’ নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাজটাইমস ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৩

পাসপোর্টের দালালদের নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
পাসপোর্ট অফিসে অর্থের বিনিময়ে সহায়তাকারী এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী, যারা দালাল নামে পরিচিত, তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এবার সেই আদলেই মধ্যস্থতাকারীদের নতুন করে বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোগান্তি লাঘব ও নিয়মের মধ্যে আনার জন্য পাসপোর্ট সহায়তাকারীদের পরীক্ষামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

পাসপোর্টের কাজে সহায়তাকারীদের বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছেন, এর মাধ্যমে পাসপোর্টের 'দালাল চক্রের' বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন মধ্যস্থতাকারীদের বৈধতা না দিয়ে পাসপোর্ট করতে হয়রানি ও ভোগান্তি বন্ধ করতে পদ্ধতি সহজ করা প্রয়োজন।

এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালে পাসপোর্ট অফিসের মধ্যস্থতাকারীদের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এজেন্টদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিধিমালা তৈরি শুরু হওয়ার কথাও জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই বিধিমালা করা হয়েছিল কি না বা অগ্রগতি কতটুকু, তা নিশ্চিত তথ্য মন্ত্রণালয় দিতে পারেনি।

সরকার যা বলছে

বিএনপি সরকারের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও পাসপোর্ট অফিসের সহায়তাকারীদের বৈধকরণ প্রস্তাব করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট অফিসে কিছু লোকের যোগসাজসে জনগণের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। সেটি নিরসনের জন্য এ পদক্ষেপ। তিনি জানান, নিবন্ধিত সহায়তাকারীরা নির্দিষ্ট কাজের জন্য সার্ভিস চার্জ নেবেন। বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ হচ্ছে, সেটি পদ্ধতিগত করার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ট্রায়াল পদ্ধতি সফল হলে সারাদেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রেজিস্ট্রি অফিসের আদলে কর্মসংস্থান ও সেবা সহজীকরণের জন্য এ উদ্যোগ।

বাস্তবতা

বাংলাদেশে এখন ই-পাসপোর্ট সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। অনলাইনে ফরম পূরণ, নির্ধারিত তারিখে ব্যাংকে টাকা জমা এবং ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। দালালের প্রয়োজন হওয়ার কথা নেই।

তবু অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষ অনলাইনে আবেদন, শিডিউল নেওয়া ও ছবি তোলা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। কিছু মানুষ দ্রুত কাজের জন্য দালালের সাহায্য নেন। ফলে এখনও অনেকেই এজেন্টদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।

পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন সিস্টেমে নির্দিষ্ট দিন ও টাইম স্লট বরাদ্দ থাকলেও সেবা পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ আছে। উন্নত দেশে এমন সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে হয় এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক নাদিরা আক্তার বলেন, আবেদনকারীরা সবসময় সময়মতো আসেন না। তাই সেবা প্রদানে জটিলতা তৈরি হয়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাসপোর্ট অফিসের সহায়তাকারীরা উদ্যোগকে ভালো হিসেবে দেখছেন। ঢাকার একটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনলাইন আবেদন ও ফি পরিশোধে সহায়তা দেওয়া অনুজ আহমেদ বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে সেবা সহজ হবে।

দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ পাসপোর্টে দালালদের বৈধকরণের বিপক্ষে। নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। ডিজিটাল সেবা সহজ করার পরিবর্তে দালাল চক্রকে বৈধতা দেওয়া ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য পুরো প্রক্রিয়া সহজীকরণের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এ ধরনের আইনি বৈধকরণ বাস্তবক্ষেত্রে অনিয়ম ও খরচ বাড়াবে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]