03/02/2026 প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে রামেবির প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৭
গত ০২ মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রথম আলো, যুগান্তর, আজকের পত্রিকা এবং পদ্মা টাইমস-এ ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ একপাক্ষিক, ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেনিথ করপোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’—উভয়েই অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কোনো দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে তাদের নিকট ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় এবং সুস্পষ্টভাবে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকৃত তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান:
১. টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপের চেষ্টা:
‘জেনিথ করপোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপু দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি টেন্ডার ডাটা শিট (ঞউঝ) তার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সাজানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, যা প্রচলিত পিপিআর (চঁনষরপ চৎড়পঁৎবসবহঃ জঁষবং) বহির্ভূত। বিশেষ করে “ঝঢ়বপরভরপ ঊীঢ়বৎরবহপব” শর্ত দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০%–৮০% এর মধ্যে নির্ধারণের বিধান থাকা সত্ত্বেও তা ৫০% এর নিচে নামিয়ে আনার জন্য তিনি চাপ প্রয়োগ করেন, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। নিয়মবহির্ভূত শর্ত আরোপে প্রশাসন সম্মত না হওয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে।
২. রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ:
আতাউর রহমান টিপু নিজেকে বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। এমনকি সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন-এর ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
৩. শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি:
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাজ না দিলে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপাচার্য মহোদয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টেন্ডার শর্ত নিজেদের অনুকূলে সাজানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়াও পরিচালক (প.উ.), সেকশন অফিসার ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতিও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৪. ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত:
উক্ত হুমকি, অনৈতিক আবদার ও প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টার ডিজিটাল প্রমাণাদি (হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ভয়েস রেকর্ড ইত্যাদি) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে রেখেছে। প্রয়োজনবোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট তা উপস্থাপন করা হবে।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি মেগা প্রকল্প সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।