30025

03/05/2026 নেপালে জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত ওলি আবারও ফিরছেন নির্বাচনে

নেপালে জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত ওলি আবারও ফিরছেন নির্বাচনে

রাজ টাইমস ডেস্ক

৫ মার্চ ২০২৬ ১১:০১

নেপালে গত বছরের জেন-জি আন্দোলনে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাসের মাথায় আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হিমালয়কন্যা নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া ওলি এবং তার দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবারের নির্বাচনে কতটা জনসমর্থন পাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটে নেপালের লাগামহীন দুর্নীতি, উচ্চ বেকারত্ব এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

এবারের নির্বাচনে প্রথাগত রাজনীতিকদের বাইরে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী তরুণ রাজনীতিক বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামে পরিচিত। সাবেক এই র‍্যাপার কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) পক্ষ থেকে বালেন শাহকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি, যা ওলির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এই আসনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি বালেন শাহ বনাম অভিজ্ঞ নেতা ওলির লড়াইকে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বা ‘রণক্ষেত্র’ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেপালি কংগ্রেসও এবার নতুন কৌশলে মাঠে নেমেছে। তারা প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে সামনে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ডর নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টিও নির্বাচনে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

গত সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে প্রতিটি দলই তাদের ইশতেহারে সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নেপালি কংগ্রেস এমনকি ১৯৯০ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

নির্বাচনের এই সমীকরণে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবও অত্যন্ত সক্রিয়। ঐতিহাসিকভাবে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ভারত এবারের নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে ওলির শাসনামলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে দিল্লির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

বেইজিংও তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি অনুকূল সরকারের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌশলগত স্বার্থ প্রায় একই বিন্দুতে থাকায় ওয়াশিংটনের অবস্থানও দিল্লির কাছাকাছি। এই ত্রিমুখী আন্তর্জাতিক স্বার্থ নেপালের ভোটারদের মেরুকরণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি আসনের ফলাফল ঘোষণার চেষ্টা করা হবে। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির কারণে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সমানুপাতিক পদ্ধতির বাকি ১১০টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে। নেপালের পার্লামেন্টের মোট ২৭৫টি আসনের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কার পাল্লায় ভারী হয় এবং ক্ষমতাচ্যুত ওলি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারেন কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।

সূত্র: বিবিসি

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]