03/13/2026 দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ: রাষ্ট্রপতি
রাজ টাইমস ডেস্ক
১২ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চালু করা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নারী ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়, আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করেছে। গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
শহীদদের স্মরণে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় তিনি আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থনীতি আগের বছরের তুলনায় অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা অতীতের অনিয়ম তদন্ত করবে।