03/29/2026 রাজশাহী অঞ্চলে হামের ভয়াবহ বিস্তার ॥ ১২ শিশুর মৃত্যু
শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন
২৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৭
চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসোলেশন সংকট এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানায়, চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেয়ার পরও ৯ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আরও কয়েক শিশুর মৃত্যু হয়।
রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুরে দেখাগেছে, ছোঁয়াচে রোগ ‘হাম’-এর লক্ষণ নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। আবার এসব রোগীদের পাশেই অন্য অসুস্থ শিশুদের রাখা হচ্ছে। ফলে অন্য শিশুদেরও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিসের তথ্যমতে, ১৮ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। যা মোট পরীক্ষার প্রায় ২৯ শতাংশ। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে অন্তত ৮৪ শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউ সুবিধা পাওয়ার পরও ৯ জন এবং অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থাকলেও জনবল সংকটের কারণে রোগী স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত হাসপাতালের ১০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে এমন কোনো কর্নার দেখা যায়নি। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু কর্নারের সাইনবোর্ডের পাশে ইংরেজিতে ‘হাম কর্নার’ লেখা দুটি কাগজ সাঁটানো রয়েছে। ভেতরে দুই পাশে পাঁচটি করে ১০টি শয্যা রয়েছে। ওই কর্নারের রোগীদের কী হয়েছে জানতে চাইলে কয়েকজন স্বজন বলেন, তাঁদের বাচ্চার ডায়রিয়া হয়েছে।
এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অন্য রোগ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর সংক্রমণের ঘটনা বাড়ছে বলে তারা দাবী করেন। এক শিশু চিকিৎসক জানান, এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি। অনেক শিশুর টিকা কার্ডে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হামের টিকার তথ্য নেই।
এছাড়া ৯ মাস বয়সের আগেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। একই সাথে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলছেন, দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু এবং গণটিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে হামের এই প্রাদুর্ভাব আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। এজন্য এবিষয়ে এই মুহুর্তেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।