04/11/2026 সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে, তিনে ডা. শফিক, দুইয়ে কে?
রাজ টাইমস ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৬
জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দেশে অপপ্রচারের ঢেউ উঠেছে। এ কাজে দেশের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যেমন জড়িত, তেমনই অপপ্রচার চলেছে ভারত থেকেও।
আর অপ্রচারের শিকার হওয়াদের মধ্যে শীর্ষে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই আছেন পতিত শেখ হাসিনা এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সম্প্রতি অপপ্রচার শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশের করা একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ওই প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তিন মাসে ভুল তথ্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজনীতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। সম্মিলিতভাবে এবং রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রয়েছেন শীর্ষে। তাকে নিয়ে ২৮৭টি অপপ্রচার শনাক্ত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমত প্রভাবিত করার প্রবণতাকে তুলে ধরে।
অপপ্রচারের শিকারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে নিয়ে ৯০টি অপপ্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। তৃতীয় স্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ৮০টি অপতথ্যের শিকার।
রিউমার স্ক্যানার বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে মোট ১৯৭৪টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৮৩৭টি।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভুল তথ্যের বিস্তার বাড়ার পেছনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতীয়, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগের প্রান্তিকের (২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ।
একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে তারেক রহমানকে নিয়ে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে বিএনপিকে নিয়ে। এই তথ্যগুলো রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে গত তিন মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানার আরও বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ফেসবুকেই সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্যের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ১,৭৩২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৯টিরও বেশি ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে এখানে।
ফেসবুকের পর একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে টিকটকে, ৩৬৮টি। এছাড়া ইউটিউবে ১১৫টি, ইনস্টাগ্রামে ২৬৪টি এবং মেটার আরেক প্ল্যাটফর্ম থ্রেডসে ৫১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।