05/07/2026 হাদি হত্যার বিচার বিলম্বের প্রতিবাদে ববিতে সমাবেশ ও মিছিল
ববি প্রতিনিধি:
৭ মে ২০২৬ ১৭:৪৮
আধিপত্যবাদ বিরোধী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচারকার্য এখনো ত্বরান্বিত হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা নিরসন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ওসমান হাদির বড় বোন মাসুমা হাদি উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে ববি ছাত্রদলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইকবাল রাজু বলেন, "প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে বিদ্যমান। যতদিন পর্যন্ত তাদের অপসারণ করা না হবে, ততদিন শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার বিলম্বিত হতে থাকবে। আমরা এই সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং হাদি হত্যার বিচারের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বিলম্বের কারণ জাতির কাছে উপস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ববি শাখার সাবেক মুখপাত্র জিয়াদ হাসান জীম বলেন, "প্রায় ১৪০ দিন পেরিয়ে গেছে, তবুও শহীদ ওসমান হাদির রক্তের বিচার আজও নীরবতার দেয়ালে বন্দি। একটি প্রাণের আর্তনাদ শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের বিবেকের আহাজারি। বিচারহীনতা কখনোই একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না। আমরা অবিলম্বে এই হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
ববি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, "সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার ১১৩ বার পিছিয়েছে, আর ওসমান হাদিরটা পিছিয়েছে ১৩ বার। বিচার বিভাগ আর কতবার পেছালে জাতি লজ্জিত হবে, এটাই আমাদের প্রশ্ন। হাদির হত্যাকারী কীভাবে রাজধানী ঢাকার মতো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় থেকে পালাতে সক্ষম হলো, তার জবাবদিহিতা আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে চাই। সরকারকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।"
আবেগঘন কণ্ঠে মাসুমা হাদি প্রশ্ন তুলে বলেন, "শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল হাঁটতে চেয়েছিলেন, তিনি ইনসাফের সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তার নিজের ইনসাফ কোথায়? প্রধান আসামি ফয়সাল একজন ভাড়াটে খুনি মাত্র। তার একার পক্ষে ওসমান হাদির মতো একজন বিপ্লবীকে গুলি করার সাহস পাওয়ার কথা নয়। তাকে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো পর্যায় থেকে পালানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। এই নেপথ্য কুশীলব কারা, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ওসমান হাদি এখন আর শুধু আমার ভাই নন, তিনি পুরো বাংলাদেশের ভাই। আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রতিবাদের দাবানল সৃষ্টি হয়েছে, তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।"
সমাবেশ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে "ওসমান হাদির রক্ত, বৃথা যেতে দেব না" এবং "আধিপত্যবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও" স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়।