05/12/2026 নাহিদের ৫ উইকেটে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
রাজ টাইমস ডেস্ক
১২ মে ২০২৬ ২১:২৮
ঘরের মাঠে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়েকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কখনো জয় পায়নি।
পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে টেস্ট জিতে আসলেও এবারই প্রথম পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে টেস্টে হারালো বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে নাহিদ রানার তাণ্ডবে কুপোকাত হলো পাকিস্তান।
মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে অলআউট করে দিলো নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামরা। ফলে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক এক জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত ফাইফার নিলেন নাহিদ রানা।
মিরপুর টেস্টে জিতবে কি বাংলাদেশ! ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়ার পর ভক্ত-সমর্থকদের এই একটাই প্রশ্ন। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ।
তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।
৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান।
এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ আব্বাস টিকে ছিলেন। তাদের জুটি ভেঙেছেন নাহিদ রানা। ১০৪ রানে জিতেছে বাংলাদেশ।
এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।