30525

05/15/2026 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ

রিফাত হোসেন,ববি প্রতিনিধি

১৫ মে ২০২৬ ০০:৫৮

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ‘লিংকার্স’সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন তারা।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় থেকে নিয়োগ পাওয়া এ উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারবেন না বলে দাবি তাদের।

অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) পড়াকালীন বাম ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। তখন কামাল ও রঞ্জিত নামে দুই শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামি হয়ে জেলও খাটেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

অবকাঠামো উন্নয়ন আন্দোলনের নেতা রিপন মন্ডল বলেন, "যেখানে ঢাবি, রাবি থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান করতে পারেন না, সেখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষক কীভাবে আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাবেন? পবিপ্রবি থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে আমাদের সাথে মশকরা করা হয়েছে। ঢাবি থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"

আপ-বাংলাদেশের আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম বলেন, "আমাদের নতুন ভিসির বিভিন্ন কলুষিত অতীত ইতোমধ্যে আমাদের সামনে আসতে শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এমন ব্যক্তিকে আমাদের পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মেনে নিতে পারছি না। দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ভিসি নিয়োগ আমাদের জন্য হতাশার। আমরা এমন ভিসি চাই, যার দেশজুড়ে খ্যাতি আছে, শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান আছে এবং প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে। সর্বোপরি এমন ভিসি চাচ্ছি যিনি স্বৈরাচারী আমলে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।"

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ঢালী বলেন, "বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট কোনোভাবেই কাটছেই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অ্যাকাডেমিক ও অবকাঠামো—সব দিক থেকেই আমরা ববিয়ানরা ভুক্তভোগী। গত বছর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অযোগ্যতার দরুন ট্রেজারার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাকেই আবার ভিসি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

তীব্র নিন্দা জানাই ইউজিসির প্রতি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটাপন্ন অবস্থার কখনো নিরসন হয়নি। ধারণা করছি, এই অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্য পূর্বের মতোই বহাল থাকবে! আমরা এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সৎ, যোগ্য এবং চৌকস একজন উপাচার্যের নিয়োগের দাবি জানাই।"

জাতীয় ছাত্রশক্তির ববি শাখার আহ্বায়ক মোঃ বেলাল বলেন, "নতুন ভিসি নিয়ে স্টুডেন্টদের মধ্যে আমরা একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি এবং এটা স্বাভাবিক। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের যোগ্য কোনো অভিভাবক পাচ্ছে না। সবাই জানত ভিসি দলীয় নিয়োগই হবে, তবে এমনটা কেউ আশা করেনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সরকার যোগ্যতাসম্পন্ন একজন লোককে নিয়ে আসবে, কিন্তু আনলেন দলীয় ক্যাডার! যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হিসেবে আমাদের আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে।"

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগামী ৪ বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]