30604

05/24/2026 রাজশাহীতে ‘অধিকার’-এর মানববন্ধন

রাজশাহীতে ‘অধিকার’-এর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬ ০০:০৭

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড় চেম্বার ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী মহানগর ও জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক অংশ নেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন অধিকার রাজশাহীর সমন্বয়কারী ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ কাউছারী। বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক রাসেদুল হক ফিরোজ, এম শামিম আক্তার, হুজাইফা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জুলইকরাম ইবতিদা এবং ফটোসাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ। এ সময় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র বিবৃতি পাঠ করেন গুম হওয়া পরিবারের সদস্য উম্মে কুলসুম জেমি।
এ সময় বক্তারা বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলো আজও চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আইনি স্বীকৃতি না থাকায় অনেক পরিবার ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ কিংবা আর্থিক সহায়তা পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।
তারা বলেন, সরকার চাইলে খুব সহজেই এসব পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। প্রিয়জনদের হয়তো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু পরিবারগুলোর ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে এখনো গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে গুমের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। গুমের শিকার পরিবারগুলো মামলা করতে গিয়েও হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, গুম বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি অধ্যায়। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আবারও গুম ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে। তাই মানবাধিকার সুরক্ষা ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্বচ্ছ আইন প্রণয়ন জরুরি।
তারা আরও বলেন, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে দেশে আবারও ভয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরে আসবে। একই সঙ্গে গুমের ভয়াবহতাকে অস্বীকার করে পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টারও সমালোচনা করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, প্রতি বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ’ পালন করা হয়। ১৯৮১ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সংগঠন ‘ফেডেফেম’ প্রথম এই কর্মসূচি শুরু করে। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠন এ কর্মসূচি পালন করে আসছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে। সে সময় দেশে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা গড়ে তুলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও কথিত জঙ্গিদের আটকে রাখা হতো বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে অধিকার’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে গুম প্রতিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা, ভারতের কারাগারে বাংলাদেশি কোনো গুমের শিকার ব্যক্তি আটক আছেন কি না সে বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে খোঁজ নেওয়া, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের আওতায় আনা।
বক্তারা বলেন, গুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই অধিকার এই কর্মসূচি পালন করছে। তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]