30825

07/03/2026 প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: এমপি মিলন

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: এমপি মিলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ জুলাই ২০২৬ ১৪:১১

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীদের প্রাপ্তির মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকবে না। উন্নয়নমূলক কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ১২০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৪টি পরিবারকে বসতঘর দেওয়া হয়। এসব খাতে মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাড. শফিকুল হক মিলন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের ধারক। প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তাদের সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন এবং গৃহহীন পরিবারকে বসতঘর দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য মিলন বলেন, পবা-মোহনপুরসহ দেশের সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এনে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাস। পবা উপজেলার খৃষ্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রত্নার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হতো তাকে।
রত্না বলে, “বাবার পক্ষে আমাকে সাইকেল কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। হেঁটে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগত। এখন সাইকেল পেয়ে আমি খুব খুশি। মাত্র ১০ মিনিটেই স্কুলে যেতে পারব।” সে জানায়, এখন থেকে নিয়মিত ও সময়মতো স্কুলে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব সহায়তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সহায়তাপ্রাপ্তদের উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]