30914

07/15/2026 রাজশাহীতে সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা

রাজশাহীতে সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

১৫ জুলাই ২০২৬ ২০:১৫

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। বাতাসে দুলছে সোনালী আঁশের ফসল পাট। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে চলতি মৌসুমে জেলায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে পাটের আবাদ। এতে ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেড়েছে, যা কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

রাজশাহী জেলার বাগমারা, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী, দুর্গাপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, তানোর ও বাঘা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন পাটগাছের সবুজ সমারোহ। কোথাও শুরু হয়েছে পাট কাটা, আবার কোথাও চলছে জাগ দেওয়ার প্রস্তুতি। খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতেও দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কৃষকেরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আঁশের মানও হবে উন্নত।

কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় পাটের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, লাভজনক দাম পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিভাগ বলছে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ফসলের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন এবং সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে রাজশাহীতে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষকেরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন সোনালী আঁশ যেন সত্যিই তাদের ঘরে সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]