30923

07/16/2026 রাজশাহীতে বৃ‌ত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীতে বৃ‌ত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ জুলাই ২০২৬ ১৩:২২

রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের অসঙ্গতি দূরীকরণ, পুনর্মূল্যায়ন এবং সঠিক ফলাফল প্রকাশের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবকদের মধ্যে ড. আজিবর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দেশব্যাপী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফলে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক আঘাতের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, “আমি অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি বৃত্তি পাব বলে আশা করি। তাই খাতা পুনরায় মূল্যায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফলাফলের সকল অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, প্রয়োজন হলে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধিত ফল প্রকাশ, কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আধুনিক ও স্বচ্ছ ফলাফল প্রণয়ন ব্যবস্থা চালু করা, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, গাফিলতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপযুক্ত ফলাফল প্রকাশ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহরের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। এসব শিক্ষার্থী রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিল। একজন শিক্ষার্থীরও বৃত্তি না পাওয়ায় তারা ফলাফল প্রস্তুতিতে বড় ধরনের কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটির আশঙ্কা করছেন।
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, এই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, কেন্দ্রটির একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, “এবার আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল না আসার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এতগুলো খাতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলাফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]