মিয়ানমারে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া চীনা গাড়িবহরে জান্তা সেনাদের গুলি

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:২৯; আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৫ ২০:২২

- ছবি - ইন্টারনেট

ভূমিকম্প কবলিত মিয়ানমারে ত্রাণ বহনকারী চীনা রেড ক্রসের গাড়িবহরে গুলি চালিয়েছে জান্তা সেনারা। ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটি যখন আন্তর্জাতিক সাহায্য পেতে মরিয়া, তখন এই ঘটনা ঘটলো।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, ৯টি গাড়ির একটি বহর মঙ্গলবার রাতে ত্রাণ নিয়ে মান্দালয়ের দিকে যাচ্ছিল। রাত ৯টা ২১ মিনিটে উত্তর শান রাজ্যের নওনঘকিও টাউনশিপের ওনমাত্তি গ্রামে এসব গাড়িতে গুলি চালানো হয়।

বুধবার (২ এপ্রিল) জান্তা সরকারের মুখপাত্র মেজর-জেনারেল জাও মিন তুন স্বীকার করেছেন, শাসক বাহিনী গুলি চালিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনী ত্রাণ বহরের মুখোমুখি হয় এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে তিনটি সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়ে এটি থামায়।

তিনি আরও বলেন, ত্রাণ বহর সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বা চীনা দূতাবাসকে আগে থেকে জানানো হয়নি। সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণের পর এটি নওনঘকিও শহরে ফিরে যায়।

জাতিগত তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ওমাথি গ্রামে নয়টি ট্রাকের ত্রাণ বহরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেছে শাসক বাহিনী।

নওনঘকিও নিয়ন্ত্রণকারী টিএনএলএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কারণে চীনা বহর রক্ষা করার দায়িত্ব তারা নেবে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী জান্তার কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও মানবিক প্রচেষ্টার প্রতি সেনাবাহিনীর অবহেলার কথা তুলে ধরেছে।

মান্দালয়ের একজন বাসিন্দা ইরাবতিকে বলেন, এই আক্রমণ জান্তা সরকারের অব্যাহত শত্রুতা প্রমাণ করে, এমনকি ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যেও। তারা গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রচেষ্টার চেয়ে সহিংসতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এদিকে, গুলির ঘটনার পর মিয়ানমারের সকল পক্ষকে চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা ত্রাণকর্মী এবং সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়েছে।

অপরদিকে, দেশজুড়ে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর জান্তার বিমান হামলা অব্যাহত থাকার খবরও পাওয়া গেছে। বিদ্রোহী সংগঠন টিএনএলএ জানিয়েছে, ১ এপ্রিল নওংঘকিওর তাউং হ্লা এবং গুরখা গ্রামে জান্তার ড্রোন এবং বিমান হামলায় পাঁচ জন বেসামরিক লোক আহত হয় এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর একদিন আগে একটি সরকারি ড্রোন নিকটবর্তী কিয়াউক্কিয়ান গ্রামে বোমা ফেলে।

টিএনএলএ অভিযোগ করেছে, জান্তা ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ভূমিকম্প-পরবর্তী জাতীয় শোক ঘোষণা করলেও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দলটি বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সম্ভাব্য বিমান হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top