প্রতারণার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১ ১৯:১৫; আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১ ১৯:১৬

প্রতারক সাজ্জাদ আলী (২৮)

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী প্রেস সেক্রেটারী মো. আশরাফ সিদ্দিকী বিটুর নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে মহানরগীর রাজপাড়া থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. সাজ্জাদ আলী (২৮)।

গত বুধবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহানগরীর কাজীহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. সাজ্জাদ আলী (২৮)। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে এবং সদ্য বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । তিনি নগরীর রাজপাড়া থানার কাজীহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪ টি মোবাইল ফোন ও ১ টি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে- মো. মহিউদ্দিন মাহমুদ জয় নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ করেন যে, আসামী মো. সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী প্রেস সেক্রেটারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদ, সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট চাকুরীর তদবীর ও অর্থ দাবীসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায় করে আসছিলো।

এরই ধারাবাহিকতায় সাজ্জাদ গত ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে কল করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী প্রেস সেক্রেটারী মো. আশরাফ সিদ্দিকী বিটু পরিচয় দেন। পরে তিনি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার তারিখ জানতে চান। এসময় তিনি দ্রুত কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি মহিউদ্দিন মাহমুদ জয় নামে ছাত্রলীগের একজনকে নতুন কমিটিতে না রাখারও নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এরপর আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী ও তার টিম উক্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে সনাক্ত করে। তার অবস্থান জেনে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তথ্যের ভিত্তিতে রাজপাড়া থানার এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এসআই মো. মকবুল হোসেনের টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আসামী সাজ্জাদকে তার ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আগে থেকে সে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। সে একজন বড় মাপের প্রতারক।’ কার মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের এতো বড় পদ পেয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে গুরু তো থাকেই। আমার জানামতে, অনেক আগে রাজশাহী-০৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমানকে সে অনুসরণ করতো।’

রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিকট তথ্য আছে যে, এর আগেও উক্ত আসামি এমন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এজন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে এই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই দিন রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। সেই সঙ্গে জেলা শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ডাকযোগে/ই-মেইলে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। আর নতুন এই কমিটিতে আসামি সাজ্জাদ আলী সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top