বাড়তে পারে বিদ্যুৎ এর মূল্য

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৬:২৬; আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৫৭

ছবি: সংগৃহিত

তেলের দাম বৃদ্ধির পর দাম বাড়তে পারে বিদ্যুৎ এর দাম। নতুন দাম যেতে গ্রাহকের নাগালের বাইরে। জ্বালানি বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিশেষ করে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে উৎপাদন খরচ। খবর বণিক বার্তার।

নতুনভাবে আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকারের সংস্থাটি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দেয়া তাদের সেই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে নাগালের বাইরে চলে যাবে সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুৎ।

বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটির (বিইএস) উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে বিপিডিবির ২০২১-২২ অর্থবছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের সাময়িক হিসাব তুলে ধরা হয়। সেখান থেকে জানা যায়, সংস্থাটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে চেয়ে প্রায় ২ টাকা বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে খরচ পড়েছে ছিল ৬ টাকা ৬১ পয়সা। অবশ্য জ্বালানি তেলের চেয়ে কম ব্যয়ের স্থানীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর হিসাব বাদ দিলে সেই খরচ গিয়ে দাঁড়াবে চার-পাঁচ গুণ।

বিইসির প্রেসিডেন্ট মো. আবুল কালাম আজাদ গতকাল জ্বালানিসংশ্লিষ্ট এক সেমিনারে এ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানিভিত্তিক ব্যয় তুলে ধরেন। উত্থাপিত ওই প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে গত অর্থবছরে জ্বালানি ব্যয়, নির্ধারিত ও আবর্তক ব্যয় মিলিয়ে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির খরচ পড়েছে ৩৬ টাকা ৬০ পয়সা। এছাড়া ফার্নেস অয়েল থেকে ১৭ টাকা ১৮ পয়সা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ ১৩ টাকা ৯৬, কয়লাবিদ্যুৎ ১৩ টাকা ২২, ভারত থেকে আমদানি বিদ্যুৎ ৬ টাকা ৪৫, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ ৩ টাকা ৪৬ ও জলবিদ্যুৎ কিনতে ২ টাকা ৯৪ পয়সা খরচ পড়েছে সংস্থাটির।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। তবে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের ভুল পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তা এখন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, সাশ্রয়ী মূল্যের কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা, আমদানিনির্ভর এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বৈশ্বিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে খোলাবাজার থেকে এলএনজি কিনতে না পারায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। আর তাতেই খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ।

এদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এরই মধ্যে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। তাতেও অবশ্য খুব বেশি লাভ হচ্ছে না বিপিডিবির। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত ছয় মাসে সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে দুই দফা। অন্যদিকে বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্যাস পরিচালনায় দৃশ্যমান খরচ না বাড়লেও গ্যাসের দাম ঠিকই বেড়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও রেন্টাল বিদ্যুকেন্দ্রগুলোকে এখন ১১ শতাংশ এবং ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গড়ে ১৫ শতাংশ বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিপিডিবি। এ বিষয়ে গণশুনানি হলেও এখনো নতুন দাম ঘোষণা করেনি বিইআরসি।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী গতকাল বিইএস আয়োজিত সেমিনারে বলেন, বর্তমানে আমরা বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। জ্বালানি সংকট রোধে সরকার সব রকম চেষ্টা করছে। অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিটের উৎপাদন আগামী বছর শুরু হবে। পাশাপাশি আমরা আরো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সাশ্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এ সংকট নিরসনে অবশ্য আমদানিনির্ভরতার পাশাপাশি স্থানীয় জ্বালানি সম্পদের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আমদানি ও দেশীয় জ্বালানির যেসব উৎস রয়েছে, সবগুলোকেই গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে গ্যাস ও কয়লা রয়েছে। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার ব্যবস্থাকে পর্যবেক্ষণে নিয়ে নিজস্ব গ্যাস ও কয়লা দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করতে হবে।

নিউজের লিঙ্ক



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top