কৃষিঋণ বিতরণে গুরুত্বারোপ গভর্নরের

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১০:৫৪; আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৩৫

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি কৃষিকে সমুন্নত রাখতে ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কৃষি ঋণে গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। খবর টিবিএসের। 

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার সরকারের কৃষিনীতি পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) এ নির্দেশনা দেন।

একইসঙ্গে, উচ্চ খেলাপি বিবেচনায় শিল্প ঋণে বিনিয়োগ কমানোরও নির্দেশনা দেন গভর্নর।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, খাদ্যপণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকারপ্রধানের কৃষিতে জোর দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এমডিদের। দেশে যেসব খাদ্যপণ্য উৎপন্ন হচ্ছে সেসব পণ্য যাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয় সে লক্ষ্যে টার্গেট ভিত্তিক কৃষিঋণ বৃদ্ধি করতে জোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে, যেসব ব্যাংক কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে তাদেরকে সাধুবাদ জানান গভর্নর।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৭৮ শতাংশ বেশি।

২০২২ অর্থবছরের একই সময়ে, এই খাতে৭ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ হিসেবে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে; এরমধ্যে প্রথম চার মাসে বিতরণ করা হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৩০.৬৩ শতাংশ।

কোভিড -১৯ পরিস্থিতির সময় বিদেশ থেকে যখন খাদ্য আমদানি ব্যাহত হয়েছিল, তখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষকদের জন্য বেশ কয়েকটি অনুরূপ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।

প্রথম পর্যায়ে, ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প থেকে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে, অন্য একটি পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা হয় ৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি, বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকটের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প তৈরি করেছে।

সম্প্রতি জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই প্রকল্পের অধীনে কৃষকরা ধান, মাছ এবং সবজি চাষের জন্য ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ পাবেন; এই ঋণ তারা ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাসে পরিশোধ করতে পারবেন।

মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হুসাইন বলেন, "নতুন কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তবে কৃষি ঋণে গতি বাড়াতে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফসহ সকলেই কৃষি ঋণের ওপর গুরুত্বারোপ করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ের ঋণে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম; এটি তুলণামূলক ঝুঁকিমুক্ত। এ ঋণে সাধারণত খেলাপি হয় না। খেলাপি হয় বড় ঋণে।"

তিনি বলেন, "ব্রাক ব্যাংক আগে থেকেই কৃষিঋণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

কৃষিতে ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদহারে ঋণ দেওয়া হয়।

টিবিএসের প্রতিবেদনটির লিঙ্ক



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top