অনলাইন পরীক্ষা আয়োজনে রাবি কতটা প্রস্তুত?

কে এ এম সাকিব, রাবি | প্রকাশিত: ৫ মে ২০২১ ২২:১৬; আপডেট: ৬ মে ২০২১ ১৩:০৪

ফাইল ছবি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে চলমান সেশনজট সমস্যা নিরসনে অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়টা বিবেচনায় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার (০৬ মে) সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এই প্রস্তাবনা জানানোর ও কথা রয়েছে।

এদিকে, অনলাইন নয় বরং অফলাইন ক্লাসের পক্ষেই মত দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্লাটফর্ম ''রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার' এ পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে এমন তথ্যই উঠে আসে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেখানে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস হয় না, সেখানে অনলাইন পরীক্ষা কিভাবে সম্ভব?

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রীকান্ত রাজবংশী বলেন,'অবশ্যই অফলাইন বেস্ট অপশন। কিন্তু অফলাইনের আশায় অপেক্ষায় থাকলে, সেই অপেক্ষা কখনই শেষ হবার নয় তাই বিকল্প ব্যবস্থা করাই শ্রেয়।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আদিনা মেহজাবিন বলেন, সবাইকে এর আওতায় আনা যাবেনা। কেউ না কেউ কোন না কোনভাবে প্রযুক্তিগত ফায়দা নিবেই। পরীক্ষার হলের যে পরিবেশ সেটা পাওয়া অসম্ভব। আর গার্মেন্টস কর্মীরা নিয়ম মেনে সব করতে পারলে আমরা সেশনওয়াইজ পরীক্ষা কেন দিতে পারবো না।

এরকম না যে অনলাইন এক্সাম হলে আমি দিবনা। অবশ্যই দিব। তবে প্রতিশ্রুত সময়ে হল খুলে এক্সাম নেওয়ার পক্ষপাতী আমি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষার্থী জাবেদুল ইসলাম মনি বলেন, নিশ্চিত নিরাপত্তা দানকারী প্রযুক্তির ব্যবহারে আমি অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে অন্যথায় অফলাইনের বিকল্প নেই।

অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে মত দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি ও এগ্রিকালচার বিভাগে শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসাইন বলেন, পরীক্ষা যেভাবেই নিক, এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফজলুল হক রাজটাইমসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সেশন জট সমস্যা নিরসনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন শিডিউলে আলাদা আলাদা পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফলপ্রসূ হয় নি।

অনলাইন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা এখানে বড় বাঁধা। অনেক শিক্ষার্থীর হ্যান্ডসেট নেই। অনেকে গ্রামে থাকে তাদের নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দেয়।

আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক টিএসসিসির পরিচালক প্রফেসর ড. হাসিবুল আলম প্রধান রাজটাইমসকে বলেন, যেহেতু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে সময় পার করছে, সেহেতু প্রযুক্তিগত সকল বিষয় সমন্বয় করে এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তাছাড়া পরীক্ষার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে শক্ত নীতিমালাও প্রণয়ন করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোস্তাক আহমেদ রাজটাইমসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে অনলাইন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। যেহেতু পরীক্ষা এখানে সাইবার নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা ড. তারেক নূর রাজটাইমসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আসেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তাদের অধিকাংশের নেটওয়ার্ক প্রব্লেম অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতারও একটা বিষয় আছে৷ আমরা কতটা প্রস্তুত সেটা আগে যাচাই করে নিতে হবে।

 

  • এসএইচ


বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top