ইসরাইলি বর্বতায় রাবি নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২১ ১৬:৪১; আপডেট: ২৭ মে ২০২১ ১৭:২৪

ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনে বর্বর গণহত্যা এবং যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরাইলি উস্কানীমূলক আক্রমণ, ধরপাকড় ও দমন নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য।

আজ (২৭ মে) এক যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে: সভ্যজগতের সকল রীতিনিতি ভঙ্গ করে দখলদার ইসরাইলি সরকার বারবার এই নির্মমতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো বিচারে যুদ্ধাপরাধের সামিল। মধ্যপ্রাচ্য আজ সাত দশকের বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ এবং বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি। এর মূল কারণ জায়নবাদি ইসরাইলের বর্ণবাদি আচরণ এবং ইসরাইলের প্রতি কিছু পশ্চিমা রাষ্ট্রের শর্তহীন সমর্থন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু অগণতান্ত্রিক আরব রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমর্থন।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ খোলা জেলখানায় বাস করছে যে জনগোষ্ঠী, নিজ ভূমে বন্দীদশায় সুদীর্ঘকাল বাস করছে যে জনতা, সেই গাযাবাসীর উপর আবারও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালালো দখলদার ইসরাইল! এবারের হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় আড়াই শতাধিক ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে ৬৬ জন শিশু। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আমরা সরাসরি দেখেছি এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের ভয়াবহতা! একই পরিবারের ২১ সদস্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখেছি। পাঁচ মাস বয়সী শিশুকে ভাঙ্গা পা আর চোখে জখম নিয়ে কাঁদতে দেখেছি। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে মায়ের মৃতদেহের পাশে নিথর বসে থাকা বালককে দেখেছি। সংবাদমাধ্যমের অফিস বিল্ডিংকে পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গাযা আরও একবার বিশাল এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা করে ব্যাহত করা হয়েছে। নিজের মাটিতে ধ্বসে পড়া ইমারতের পাহাড়ে দ্বিগুণ মানবেতর জীবনে বাধ্য করা হয়েছে গাযার জনগণকে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে: সদ্য সমাপ্ত রমজানের মধ্যে জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে আল-আকসা মসজিদে হামলার মাধ্যমে জনরোষ ত্বরান্বিত হয়। ফলশ্রুতিতে হামাসের রকেট হামলার প্রেক্ষিতে ইসরাইল গাযার উপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঈদে যখন সমগ্র বিশ্বের মুসলিমরা ইবাদত-আনন্দ করেছে, তখন গাযায় ইসরাইলের নিয়মিত মিসাইল আক্রমণে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সবাই আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে! এর ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়! এগার দিনব্যাপি এক প্রকার একতরফা বিমান হামলা ও হত্যাযজ্ঞের পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি ধরপাকড় ও দমন নিপীড়ন থেমে নেই। গত শুক্রবারেও (২১শে মে, ২০২১) পবিত্র আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা ফিলিস্তিনিরা অবৈধ বসতিকারি এবং ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। ধরপাকড় চলছে সমানে। এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দি হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে: সুবিচার ছাড়া শান্তি আসতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই ভঙ্গুর যুদ্ধ বিরতি টেকার নয়। একমাত্র সমাধান হচ্ছে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতিষ্ঠা। বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষের, বিশ্ব শান্তির স্বার্থেই, নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো এখন আশু কর্তব্য। আমরা অবৈধ দখলদার ইসরাইলের এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আকাঙ্খার সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন: প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব, প্রফেসর ড. ময়েজুল ইসলাম, প্রফেসর আশরাফ উজ্জামান, প্রফেসর ড.সুলতানা মোস্তাফা খানম, প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক, প্রফেসর ড. আফরীনা মামুন, প্রফেসর ড. রায়হানা শামস ইসলাম, প্রফেসর ড.ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রফেসর ড. এফ নজরুল ইসলাম, প্রফেসর দিল আরা হোসেন, প্র্রফেসর ড. আক্তার আলী, অধ্যাপক ছাইফুল ইসলাম শামীম, প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আলী, প্রফেসর ড.শামসুজ্জোহা এছামী, প্রফেসর ড.মাহবুবুর রহমান রঞ্জু, প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান পাটোয়ারী, প্রফেসর ড.ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রফেসর ড. সৈয়দ সরওয়ার জাহান লিটন, ড. আখতারুজ্জামান মজুমদার, ড. মোহা. মনিরুল হক, কে এ এম সাকিব, মহব্বত হোসেন মিলন প্রমূখ।

 



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top