টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়

রাজশাহীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন

মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:৩৯; আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৯:৫৭

ফাইল ছবি

প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজশাহীর সরকারি-এমপিও এবং ননএমপিওভুক্ত স্কুলগুলো পাঠদানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন আগামীকাল রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজশাহীর ১ হাজার ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক এবং ৫৪৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সকল নন এমপিও স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করতে অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে বলে অভিভাবকরা শঙ্কা ব্যক্ত করছেন। তবে প্লে-শিশু ও নার্সারীর ক্লাস আপাতত বন্ধ থাকছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারী ১৯ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নগরী এবং উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসের জন্য উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবরা জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়েছে। একারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের বাড়তি যত্ন নেয়া প্রয়োজন। টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এজন্য সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আরেক অভিভাবক বলেন, করোনা মহামারির কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে সন্তানদের মধ্যে অধৈর্য, বিরক্তি এক কথায় তাদের মধ্যে মানসিক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার অনলাইনে ক্লাস ও অটো পাশের ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটার, মেডিকেল কপাল ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, ফাস্ট এইড বক্স, বিভিন্ন ধরনের জিবাণুনাশক, রুম স্প্রে, হ্যান্ডওয়াশ ও ডেটলসহ শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম যেন কিছুদিন পর যেন বন্ধ না যায় এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস গণমাধ্যম কে জানায়, মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম গণমাধম কে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষক টিকা নিয়েছেন। বাকি পাঁচ শতাংশের মধ্যে রয়েছে- সন্তানসম্ভবা, যাদের শিশুরা দুধ খায় ও যে সকল শিক্ষকরা গুরুতর অসুস্থ। তারাই কেবল টিকা নেননি।’ রাজশাহীর ১ হাজার ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত রাখতে প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তারা সেই মোতাবেক কাজও করেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ‘শিক্ষা স্কুল এন্ড কলেজ’ এর অধ্যক্ষ মোহা: ইব্রহীম হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা এবং সুনির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী আমরা নতুন উদ্যেমে পাঠদানে প্রস্তুত। একই সাথে তিনি, যথাযথ সময় বিবেচনা করে স্কুল খুলে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় এই বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করা হয়। সে মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধের’ মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top