সিলেটে পূর্বের অবিকল ধর্মঘটে গণমানুষের ভোগান্তি

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১০:১৩; আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৩৩

ছবি: সংগৃহিত

সিলেটে বিএনপির পূর্ব ঘোষিত গণসমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট গণমানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। জরুরী প্রয়োজনে মানুষ তার কর্মস্থলে যেতে পারছে না। খবর মানবজমিনের।

গণসমাবেশের আগেরদিন থেকে সিলেটে এবার ‘ব্যতিক্রম’ ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। একটি পক্ষ থেকে নয়, একাধিক পক্ষ থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। এতে জড়িত রয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫টি সংগঠন। বিভাগের ৪টি জেলায় আলাদা আলাদাভাবে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। গতকাল সিলেট জেলায় কোনো ধর্মঘট আহ্বান করা হয়নি। তবে, আজ শনিবার সকাল থেকে সিলেট জেলায় পাল্টাপাল্টি ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। তবে, শুক্রবার ধর্মঘট না থাকলেও অপর ৩ জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ধর্মঘট আহ্বান করায় সিলেট জেলাতেও ‘অঘোষিত’ ধর্মঘট পালন হয়েছে। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। প্রাইভেট যানবাহন ছাড়া গণপরিবহন দেখা গেছে খুবই কম। ফলে রাস্তাঘাটও ছিল ফাঁকা।

এর কারণ উল্লেখ করে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ময়নুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেটে গতকাল কোনো ধর্মঘট ছিল না। কিন্তু মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে সকাল থেকে স্থানীয়ভাবে ডাকা ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আর ধর্মঘট আহ্বান করে মালিক শ্রমিক নেতারা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

এ কারণে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন সিলেট শহরে ঢুকছে না। তবে, জেলার ভেতরে আন্তঃউপজেলার গাড়ি চলাচল রয়েছে। তিনি জানান, পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে আজ সকাল থেকে সিলেট জেলায় ধর্মঘট শুরু হবে। আর ধর্মঘট পালন করতে পরিবহন শ্রমিক নেতারা রাস্তায় নামবেন। ধর্মঘট সফল করতে যা যা করা প্রয়োজন সবই করা হবে। সিলেটে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধসহ ৩ দফা দাবিতে ধর্মঘট সবার আগে ঘোষণা করে জেলা পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। গত বুধবার সন্ধ্যায়ই তারা ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। এরপর ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ফলে ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে মালিক শ্রমিকদের ডাকে গতকাল সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। এ কারণে ওই ৩ জেলায় সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে, ট্রেন ও নৌপথে মানুষজন এসেছে। সুনামগঞ্জ থেকে নৌকাযোগে বিএনপি’র কয়েকশ’ নেতাকর্মী গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট নগরে এসেছেন। জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিমউদ্দিন মিলন গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, আমরা নৌকার ব্যবস্থা করেছি। ফলে নেতাকর্মীরা নৌকা দিয়ে সিলেটে আসেন। এ ছাড়া অনেকেই আগে চলে আসেন। ফলে ধর্মঘট দিয়ে মানুষ আটকানো সম্ভব হয়নি।

সিলেট জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবির পলাশের দাবি- আমাদের ধর্মঘট পূর্ব নির্ধারিত। হঠাৎ করে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি। পূর্ব নির্ধারিত ধর্মঘট থাকার কারণে আজ শনিবার সকাল থেকে মালিক সমিতির ডাকে সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হলে আমরা বৃহৎ পরিসরে ধর্মঘটে যেতে পারি। এদিকে, গতকাল সিলেট ছাড়া ৩ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট থাকার কারণে দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। যাত্রীরা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ হলো সিলেট বিভাগের প্রবেশপথ। হবিগঞ্জ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়ার কারণে দূরপাল্লার কোনো গাড়িই সিলেট বিভাগে প্রবেশ করতে পারেনি। বিশেষ করে হবিগঞ্জের প্রবেশমুখ মাধবপুরে অবস্থান নিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। সিলেটের প্রবেশমুখ শেরপুরেও ব্যারিকেড দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে সিলেট থেকে কোনো যানবাহনই বাইরে যেতে পারছে না।

গতকাল বিকালে সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট না থাকায় ঢাকাসহ দূরপাল্লায় যেতে যাত্রীরা ভিড় করছিলেন। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গাড়ি যেতে পারছে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এতে করে যাত্রীরা দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন। আব্দুস সামাদ নামের ঢাকার এক যাত্রী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জরুরি কাজে তার আজ ঢাকা যাওয়ার প্রয়োজন। সিলেটে ধর্মঘট নেই জেনে এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখেন গাড়ি নেই। তার মতো আরও অনেক যাত্রীই পড়ে বিপাকে। কেউ কেউ ট্রেনে করে গন্তব্যে গেছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। ট্রেনের টিকিট সোনার হরিণ। যাত্রী বেশি থাকার কারণে ট্রেনের টিকিট পাওয়া ছিল দুস্কর। এদিকে, সিলেট নগরেও গতকাল যানবাহন চলাচল করেছে কম। গণপরিবহন বলতে কেবল সিএনজি অটোরিকশাই চলাচল করেছে। প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া আর কোনো যানবাহন রাস্তায় দেখা যায়নি। সকালে ইজতেমা ছিল। ফলে সকালের দিকে যানবাহন চললেও বিকালে যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে সিলেটের রাস্তাঘাট। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের ৩ জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসেছে। রাতে গাড়িবহর নিয়ে সিলেটে আসেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা। তাদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা সাংগঠনিকভাবেই করা হয়েছে। গণসমাবেশে কোনো বাধাই নেতাকর্মীরা মানেনি বলে জানান তিনি।

ধর্মঘট দিয়ে গণসমাবেশ ঠেকানো যাবে না- টুকু: কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, বিএনপি’র সমাবেশ ঠেকাতেই সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট দেয়া হয়েছে, তবে অবরোধ-ধর্মঘট করে গণসমাবেশ ঠেকানো যাবে না। সকল বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে মানুষের ঢল নামবে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে শতশত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ সময় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সফল করতে হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে ১৯শে নভেম্বর বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশস্থল পরিদর্শনকালে কথাগুলো বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি শাহ নেওয়াজ বখত চৌধুরী তারেক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মো. সম্রাট হোসেনসহ বিপুলসংখ্যক যুবদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মানবজমিনের নিউজের লিঙ্ক



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top