কী বার্তা নিয়ে আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

রাজ টাইমস ডেস্ক : | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৩ ১৮:২৩; আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:২৯

ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু আজ শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা সফরে আসছেন।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তার এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই সফরে র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

দুই দিনের সফরকালে ডোনাল্ড লু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং আগামী সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে তার এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা থাকতে পারে। ওয়াশিংটনের কী বার্তা তিনি নিয়ে আসছেন তা জানতে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল রয়েছে।

সূত্র বছে, ডোনাল্ড লু মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। গত ৩০ বছর যাবৎ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে পররাষ্ট্র কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ডোনাল্ড লু। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি) দায়িত্ব পান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রভাবশালী এ কর্মকর্তার নাম বিশেষ আলোচনায় আসে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্য থেকে।

এবার বাংলাদেশ সফরে ওয়াশিংটনের কিছু এজেন্ডা নিয়েই আসছেন লু। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সব দলের অংশগ্ বার্তা দেবেন। পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার পরিস্থিতি, গুম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কথা বলবেন।

লু’র সফরকে সরকার যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সেটার ইঙ্গিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনও দিয়েছেন। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠকে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তোলা হবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে তাদের প্রতি যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

র‌্যাব গঠনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততার কথা তুলে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব যখন তৈরি হয়, তখন আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের পরামর্শেই তৈরি হয়। তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই দেশগুলো র‍্যাবের কনসেপ্টটা দেয়। তারাই তৎকালীন সরকারকে এজন্য ইকুয়েপমেন্ট দেয়। তাদের কারণেই প্রাথমিকভাবে র‌্যাব চালু হয়।’

মোমেন বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে র‌্যাব এখন অনেক পরিপক্ব। দেশের জনগণ তাদের পারফরম্যান্সের জন্য তাদের চায়৷ আমেরিকা অন্য বুদ্ধিতে তাদের উপর প্রেশার দিয়েছে।’

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের যে প্রতিক্রিয়া, তা নিয়ে সরকারে অস্বস্তি আছে কি না কিংবা সে বিষয়টি লুর কাছে তোলা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোনো অস্বস্তি নেই৷ অন্যরা যদি পরামর্শ দেয়, তা যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তা আমরা গ্রহণ করব। আর পরামর্শ দিলেই তো হবে না, বাস্তবায়নও একটা বড় বিষয়। আমরা বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেব।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় একটা স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায়। কোনো বুলেটের মাধ্যমে আসে নাই, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যালটের মাধ্যমে আসে।’

এদিকে ডোনাল্ড ল ‘র সফরকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরুতে সরকারের তিন মন্ত্রী আলোচনা করেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থার মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে ডোনাল্ড লুর সফরের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠক থেকে আইনের শাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top