ইরানের হামলায় ৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষতি ২ বিলিয়ন ডলার
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬ ২০:১৭; আপডেট: ৪ মার্চ ২০২৬ ২২:২২
ইরানের বিরুদ্ধে গত শনিবার থেকে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথম চার দিনে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ অস্থিরতা ছড়ানো এই যুদ্ধের এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ ও ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো- কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার সিস্টেম, যার মূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও রোববার কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমান ভূপাতিত করে। হামলায় ছয়জন পাইলট বেঁচে গেলেও, বিমানগুলো বাঁচেনি। এই তিনটি বিমানের মূল্যও আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার।
এরআগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েরের প্রথম হামলার পরপরই বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে হামলা চালায় ইরান। এতে সেখানে থাকা দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং বেশ কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ধ্বংস হওয়া এসএটিকম টার্মিনালগুলো ছিল এএন/জিএসসি-৫২বি, যার স্থাপন ব্যয় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের থার্ড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল (এবিএম) সিস্টেমের এএন/ টিপিওয়াই-২ রাডার উপাদানটিও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, একটি এবিএম ধ্বংস হয়ে গেছে, যা ধ্বংস হওয়া রাডারটির মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আনাদোলু বলছে, এই খরচগুলো যোগ করলে দেখা যায়- গত চার দিনে ইরান ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন সামরিক সম্পদের ক্ষতি করেছে।
এছাড়াও শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে: এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর, ক্যাম্প আরিফজান, কুয়েতে আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প বুহরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বন্দর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি।
স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের হামলার পর কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির একাধিক স্থানে ছাদ ধসে পড়েছে। ক্যাম্প আরিফজান ছিল প্রাথমিক স্থান যেখানে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং-এর ভিতরে রেকর্ড করা একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ছে এবং এর সীমানার মধ্যে বিস্ফোরিত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিশ্চিত করা ফুটেজ এবং ছবিতে দেখা গেছে, ইরান শনিবার এবং রোববার ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। এলাকা থেকে ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা উঠতে দেখা যাচ্ছে।
রোববার সকালের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ওই ঘাঁটির একটি অংশের চারটি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, বেড়া ঘেরা মার্কিন নৌবাহিনীর বিনোদনমূলক অঞ্চলের মধ্যে একটি বৃহৎ ভবন থেকে ধোঁয়া উড়ছে। যদিও এটি কোনও আনুষ্ঠানিক মার্কিন ঘাঁটি নয়।
এদিকে সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সীমিত আগুন এবং সামান্য বস্তুগত ক্ষতি’ হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ভবনের ভেতরে অবস্থিত সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে।
কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো প্রক্শ করেনি কোনো পক্ষ, তবে এই হামলাকে কুয়েতি কর্মকর্তারা ‘নৃশংস’ ইরানি আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন। এরপরই অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারগুলোকে সরিয়ে নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে আঘাত হানে একটি সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন, যা চ্যান্সেলারি ভবনের সংলগ্ন একটি পার্কিং লটে আঘাত করে। ফলে বড় ধরনের কোনও কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: