ববির ১০৯ শিক্ষকের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

রিফাত হোসেন,ববি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৮; আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৪

- ছবি - ইন্টারনেট

শিক্ষক সংকট, পদোন্নতি জটিলতা ও আইনগত অনিশ্চয়তা নিরসনের দাবিতে এক দিনের কর্মবিরতি এবং সমস্যা সমাধান না হলে পরদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়োছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিক্ষকদের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দীন।

শিক্ষকদের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিভিন্ন বিধি ও প্রবিধানের আওতায় পরিচালিত হলেও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারিকৃত একটি নির্দেশনার কারণে পুরো কার্যক্রম আইনগত সংকটে পড়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিকসংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। ফলে পূর্ববর্তী বিধির আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচের পাঠদান চালাতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫১টি পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ থাকায় শিক্ষাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী একটি সিলেকশন বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। তবে বোর্ড বসার পর ইউজিসি থেকে একটি চিঠি পাওয়া যায়, যেখানে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। একটি সভা হয়েছে, তবে এখনো তার সিদ্ধান্ত হাতে পাইনি। আশা করছি দ্রুতই একটি ইতিবাচক সমাধান পাওয়া যাবে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top