ইরানের হামলায় দাউদাউ করে জ্বলছে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স
রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪১; আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১১
ইরানের হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয়র শিল্প নগরী জুবাইলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের অনুরূপ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। রিয়াদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী মঙ্গলবার এএফপি’কে জানান, ‘জুবাইলে সাবিক প্লান্টে হামলায় আগুন লেগেছে। বিস্ফোরণের শব্দ ছিল খুবই তীব্র।’ এখানে সাবিক বলতে সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে বোঝানো হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় জুবাইল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্প নগরী। এখানে ইস্পাত, পেট্রোল, পেট্রোকেমিক্যাল, লুব্রিকেটিং তেল ও রাসায়নিক সার উৎপাদন করা হয়।
পরে একই সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শ্রমিকদের আবাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাবিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি।
সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, তার দেশ ইরানের আসালুয়েহতে বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘শক্তিশালী হামলা’ চালিয়েছে। ইরানের গণমাধ্যম ওই স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে।
জুবাইল শিল্পাঞ্চলে হামলার সময় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বহর প্রতিহত করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যুৎ স্থাপনার আশপাশে পড়ে। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।
মঙ্গলবার ভোরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার পর সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী প্রধান সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
কিং ফাহদ কজওয়ের সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে জানায়, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিং ফাহাদ সেতুতে যান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।’
এই কজওয়েটি ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুসমূহের একটি নেটওয়ার্ক, যা সৌদি আরব ও বাহরাইনকে যুক্ত করেছে।
কয়েক ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সেতুটি আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু করে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে সৌদির জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: