ভোট সুষ্ঠু না হলে দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও আসবে: নাহিদ ইসলাম
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:১৫; আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:৫৯
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও আসবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা যাবে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চাইলে তা ভেস্তে যাবে। এবারের ভোট ২০০৮ সালের মতো না, ১৯৯১ সালের মতো।
এর আগে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করে। এনসিপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন ও আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপির পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী এই ব্যাখ্যা ইসি দিতে পারে না। এটি তারা করেছে বিএনপির চাপে, এতে কমিশনের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদল মব করেছে, তারা সেখানে বসেছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখান থেকে বৈঠক করে নিজেদের পক্ষে একটি রায় নিয়ে আসছে। দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিক, তা আমরা চাই না। আমরা আদালতে যাবো। তবে তারা আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
নাহিদ বলেন, তারেক রহমান দেশে আসার সময় সারা ঢাকায় তাঁর ছবিযুক্ত পোস্টার ব্যানার ছিল। তখন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে ব্যবহার করে শোকসভার নামে নানা প্রচারণা করা হচ্ছে। কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এসব কিছু দেখে ইলেকশন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে। ইলেকশন কমিশনের সামনে বসে থাকলে, মব করলে যদি রায় বদল হয়, তবে আমাদেরকেও যেতে হবে, কিন্তু আমরা সেই পরিস্থিতিতে যেতে চাই না।
তিনি বলেন, তারেক রহমান বলেছিলেন, তার একটি পরিকল্পনা আছে। স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিকে চাপ প্রয়োগ করা তার পরিকল্পনা কিনা এটা জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা, নির্বাচনকে একদিকে হেলে ফেলানো, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক, ব্যাংক লুট ও পাচারকারীদের সংসদে নেওয়া, প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করা, গণভোটে না ভোট কি তার পরিকল্পনা কিনা সেসব স্পষ্ট করা উচিত। এমন যদি তার পরিকল্পনা হয়ে থাকে তবে জনগণ সেই পরিকল্পনা মেনে নেবে না।
নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইলেকশন কমিশন সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইসি নিরপেক্ষতা না রাখতে পারলে প্রয়োজনে ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তবে আমরা মুখোমুখি অবস্থান চাই না।
তিনি বলেন, ইলেকশন কমিশন সবার আস্থা অর্জন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে প্রত্যাশা করব? ইলেকশন কমিশন যদি মনে করে দেশে একটাই দল, তাহলে তারা ভুল ভেবেছে। ইসি এমন করতে থাকলে, আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব।
১০ দলীয় জোটের আসন চূড়ান্ত করার বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, জামায়াত-এনসিপির যারা মনোনয়ন পাবেন না, তারা কাল প্রত্যাহার করার পর আমাদের আসন বিষয়গুলো চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর ইনস্টিটিউশনাল ও মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় বাধা। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মধ্যে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দলীয় প্রতীক, নেতাদের ছবি ও পোস্টার-বিলবোর্ড ব্যবহার করে প্রচারণা চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয় নির্বাহে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দল ও প্রার্থীকে আলাদা অনুদান দেওয়া যাবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: