হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ১৪ দিনের রিমান্ডে

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ২০:৪০; আপডেট: ৯ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০

- ছবি - ইন্টারনেট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

রোববার (৮ মার্চ) ফয়সাল ও আলমগীরকে আদালতে নেওয়া হলে তাদের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, দুই বাংলাদেশি নাগরিক খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করার পর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপন আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সেই তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে বনগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে। যাদের একজনের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ও অন্যজনের নাম আলমগীর হোসেন।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ওসমান হাদিকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গা ঘোরাফেরা করার পর অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে আসার উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁওয়ে আসে।

এদিকে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই এবং এই সময় ফয়সাল ও আলমগীরের গ্রেফতারের বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এও দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। ফয়সাল আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

সে সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন।

হাদির মৃত্যুর পর হওয়া মামলায় পলাতক থাকা ফয়সাল করিমের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তবে অধরা ছিলেন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল। তিনিই হাদিকে গুলি করেছিলেন বলে জানা যায়। অবশেষে পলাতক ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের গ্রেফতারের খবর এলো ওপার বাংলা থেকে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top