জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে যাবে না বিএনপি

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৯; আপডেট: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪০

- ছবি - ইন্টারনেট

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তার দলের এককভাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান (৬০) প্রাই দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। এই দুই দল মিলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে।

জামায়াত ইতোমধ্যেই বলেছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করার জন্য একটি ঐক্য সরকারের জন্য ওই অংশীদারত্ব পুনরায় চালু করার বিষয়ে আগ্রহী দলটি।

শুক্রবার নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, আর যদি এমনটা হলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তাদেরকে ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ্য নেতারা বলছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্র জোটের প্রার্থীরা।

যদিও নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা উল্লেখ করতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’

রয়টার্স বলছে, সব জনমত জরিপেই বিএনপি জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তবে তাদেরকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে পারে, সেই জোটে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন–জিদের দল (এনসিপি)।

বৈশ্বিক সুসম্পর্ক : গত বছর রায়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নয়াদিল্লি তাকে আশ্রয় দেওয়ারর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না?— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এমন অংশীদারদের প্রয়োজন যারা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না?— এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে জনগণ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারোই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

রোহিঙ্গা সংকট : মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান করেছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর বলেছিল, দেশের বিদ্যমান অসংখ্য চ্যালেঞ্জের কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করার ক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা যেন তাদের বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু কেবল তখনই যখন পরিস্থিতি নিরাপদ হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব যাতে এই মানুষরা (রোহিঙ্গারা) তাদের নিজস্ব ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ হওয়া উচিত। যতক্ষণ না এটি নিরাপদ না হয়, ততক্ষণ তারা এখানে থাকতে পারে।’



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top