ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা শিশির মনিরের: এর কাজ কী, গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে?

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৫; আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৮

- ছবি - ইন্টারনেট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠনের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

নিজের স্ট্যাটাসে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রীপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসনে মোহাম্মদ শিশির মনির ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন; যেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত হলেও এই আসনে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা কী ও এর কাজ

সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি বিকল্প মন্ত্রিসভা, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এই ব্যবস্থার মূল কাজ হলো সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং জনস্বার্থে বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, তবে এটি সরকারকে নিয়মিত জবাবদিহিতার মধ্যে রাখে এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখে।

গঠন প্রক্রিয়া ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

ছায়া মন্ত্রিসভার প্রচলন মূলত যুক্তরাজ্যের ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ ধারার সংসদীয় ব্যবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেও এ ব্যবস্থা কার্যকর। এসব দেশে বিরোধী দল সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ নিয়োগ করে। যেমন—যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টিউলিপ সিদ্দিক ট্রেজারি সংক্রান্ত ছায়া মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারের অর্থনৈতিক ও বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে প্রচলিত গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সরাসরি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংস্কারের প্রেক্ষাপটে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের ওপর জনগণের নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করে এবং মেধা ও যুক্তিভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করে।

মোহাম্মদ শিশির মনিরের এই ঘোষণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন এবং ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top