জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির
রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৬; আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪১
হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ও একটি চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে তিনি আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে, হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় হামলার ঘটনায় কিশোর আলিফ গুরুতর আহত হন। চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার একটি চোখ রক্ষা করতে পারেননি।
এর আগে ৩০ জুলাই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের পর আলিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এনআইওএইচের দায়িত্বরত ডা. সামিয়া নুজহাত বলেন, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর রোগীর জ্ঞান ফিরে এসেছে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। অপারেশন-পরবর্তী স্বাভাবিক ব্যথা থাকলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রোগী নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে আঘাত লেগেছে। তবে এটি কোনো ধারালো বস্তু, যেমন পাথর বা ইটের টুকরো হতে পারে। আঘাতের কারণে চোখের গোলক (আইবল) ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে।
পাশাপাশি চোখের ওপরের ও নিচের পাতা (আইলিড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের পানি নাকে যাওয়ার নেত্রনালী (ল্যাক্রিমাল ডাক্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রনালী মেরামত করা হয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর কিছু স্থায়ী প্রভাব থেকে যেতে পারে। আগের মতো স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরে নাও আসতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: