আমের শহর রাজশাহীতে এখনো জমে উঠেনি আমের বাজার

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৪ ১৯:৫৪; আপডেট: ২৬ জুন ২০২৪ ০০:২০

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাংগো ক্যালেন্ডার অনুযায়ি রাজশাহীতে আম উঠার সময় ১৫মে থেকে। ওই দিন থেকে রাজশাহীর বাজারে গুটি আম উঠার কথা ছিলো। আম উঠেছেও বাজারে। কিন্তু আমের রাজ্যে যেন আমের আকাল। কেউ বলছে বাগানে আম নেই, আবার কেউ বলছে আম পরিপক্ক হয়নি। আমের শহর রাজশাহীতে এখনো জমে উঠেনি আমের বাজার।

ম্যাংগো ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত দিনের ছয় দিন পেরোলেও বাজারে দেখা মিলছে না পাকা গুটি আমের। আম পরিপক্ক না হওয়ায় বাগান মালিকরা আম নামাতে অনাগ্রহী বলে দাবি খুচড়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

এদিকে রাজশাহীর অন্যতম আমের হাট জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার। এই হাটে এখনও শুরু হয়নি আম বেচা-বিক্রি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আম পরিপক্ক হতে সময় লাগবে আরও সপ্তাহখানেক। তবে তীব্র তাপদাহে আমের আকার ছোট ও পরিমাণে কম হলেও ভালো দামের আশা ব্যবসায়ীদের।সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা আম না থাকলেও কাঁচা বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি করছেন সাহেব বাজারের আম ব্যবসায়ীরা। দুই-এক জন বিক্রেতা সাতক্ষীরা থেকে আনা পাকা আম বিক্রি করছেন। তবে, আমের ব্যবসা জমতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন আড়তদাররা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন। রাজশাহীর সাহেব বাজারের আম ব্যবসায়ী শাহিন ইসলাম বলেন, গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে, কিন্তু আমরা এখনও পাই নি। আরও ৭ দিনের মতো সময় লাগবে। এবার গাছে পাকতেই একটু দেরি হচ্ছে। পুরোপুরি পরিপক্ক হলেই নিয়ে আসবো। গতবার আম একটু বেশি ছিল, এবার একবারেই আম কম। তাই দামটাও একটু বেশি হবে।

রমজান আলী নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, গুটি আম বাজারে এসেছে কিছু কিন্তু আম পাকে নি, ভালো না। নষ্ট আর টক, ঠিকমতো পরিপক্ক হয় নি। দু-চার জন বাগান মালিক নিয়ে আসছে দাম বেশির কারণে। এ সপ্তাহ গেলে হয়তো খাওয়ার মতো হবে।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে ছালমা বলেন, রাজশাহী জেলায় বাণিজ্যিক চাষি বেশি। তারা গুটি আম খুব একটা হার্ভেস্ট করে না। খুব বেশি যে গুটি আম চাষ হয় সেটাও না। এখানে যা হয় ব্রান্ডের আম। আর ম্যাংগো ক্যালেন্ডার সকলের সর্বসম্মতিক্রমেই ঘোষণা করা হয়েছে। আর একই জাত বা গাছের আম একেক সময় পাকে। যার গাছের আম পরিপক্ক সে পাড়বে, বলাই আছে অপরিপক্ক আম পাড়া যাবে না।

রাজশাহী সাহেব বাজারের আরেক আমের আড়ৎদার রায়হান আলী বলেন, আরও পাঁচ দিন পর আম পাওয়া যেতে পারে। আম পুষ্ট কম হয়েছে, আরেকটু পুষ্ট হলেই পাওয়া যাবে। সামনে সপ্তাহে আম ভালোভাবে পাওয়া যাবে। তবে এবার আমের দাম একটু বেশিই হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে আম সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাত পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত সভায় কৃষি কর্মকর্তা, আম চাষি, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মতবিনিময় শেষে রাজশাহীর ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, সকল প্রকার গুটি জাতের আম নামানোর কথা ছিল গত ১৫ মে থেকে। তবে ২০২৩ সালে ৪ মে ও ২০২২ সালে ১৩ মে গুটি জাতের আম নামানোর সময় ছিল। আবহাওয়ার কারণে এবার সময় পিছিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, গোপালভোগ, লকনা বা লক্ষণভোগ ও রানীপছন্দ আম সংগ্রহ করা যাবে ২৫ মে, হিমসাগর ও খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম ১০ জুন, আম্রপালী ও ফজলি আম ১৫ জুন নামানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বারি আম-৪ ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই ও গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে নামাতে পারবেন বাগান মালিকরা। তবে সবার শেষে ২০ আগস্ট থেকে বাজারে পাওয়া যাবে ইলামতি জাতের আম।




বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top