পবায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কলেজ ভবনের দেয়াল দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ
পবা প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৪; আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬ ১৯:৪০
রাজশাহীর পবায় এমদাদ হোসেন নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভবনের দেয়াল দখল করে দুইটি দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইদ আলী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়াও গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ সাইদ আলী জানান, কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন সরকারি রাস্তার পূর্ব পাশে অব্যবহৃত সামান্য জায়গায় কলেজ ভবনের দেয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত করে এমদাদ হোসেন জোরপূর্বক দুইটি দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। এর আগেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ করা হয়।
অধ্যক্ষ বলেন- সম্প্রতি পুনরায় একই স্থানে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ভবনের ওই অংশে বৈদ্যুতিক মিটার সংযুক্ত রয়েছে এবং মেঝেতে সেফটি ট্যাংকি রয়েছে। দোকান ঘর নির্মাণের ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সেফটি ট্যাংকি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কলেজের রসায়ন ল্যাবরেটরি ও উপাধ্যক্ষের কক্ষের জানালাগুলো নির্মাণাধীন দোকানের ভেতরে পড়ে যাচ্ছে।
জানালা বন্ধ হয়ে গেলে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হবে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন- একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা করা সবার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড পুরো এলাকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য হুমকি। তিনি প্রশাসনের কাছে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ নির্মাণ অপসারণের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এমদাদ হোসেন পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি ওই কাউন্সিলে পরাজিত হন।
অভিযোগের বিষয়ে এমদাদ হোসেন বলেন, “জায়গাটি আমাদের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে না। তবে ইউএনও সাহেব যদি নিষেধ করতেন, দোকানঘর করতাম না। এখন প্রশাসন বললে সরিয়ে নেব।”
এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ বলেন, পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। জমির কাগজপত্র থাকলে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সে সুযোগ দেননি। সরকারি ছুটির দিনে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: