রাসিক মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীর
নগর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা
শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১৭:২১; আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০৬
রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলটির রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমীর ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। এর আগে সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ৯৭ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে রাজশাহীর রাজনীতিতে ডা. জাহাঙ্গীরের নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসে।
দলীয় প্রার্থীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান সুইট। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাসের ব্যবধানে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কে রাজশাহী নগরীর মেয়র পদে প্রার্থী করায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে নগরের গুরুত্বপূর্ণ রাজপাড়া ও বোয়ালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসনে তার ভোটপ্রাপ্তি সিটি নির্বাচনে জামায়াতের ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৪৬৬ ভোট পান। আর বর্তমান ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের চেয়ে প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। যদিও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র মেরামতের জন্য দলটি এই ফলাফল মেনে নেয়।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। পেশায় চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তিনি অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সিটি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ডা. জাহাঙ্গীরের মনোনয়নকে নগর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া ভোটকে নগরভিত্তিক ভোটে রূপান্তর করতে পারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এখন সেটিই রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রত্যাশা করছে এবার মেয়যর পদটি তারাই অর্জন করবেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: