গরীবের বন্ধু ‘একজন একরামুল হক’
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোমস্তাপুর | প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২১ ০৭:৩৬; আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২১ ০৭:৩৬

সমাজের সকল শ্রেণীর বন্ধু সদা হাস্যোজ্জল বিশিষ্ট সমাজ সেবক একরামুল হক। তবে গরীবের বন্ধু যেন তিনি একাই একজন ? চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে শুরু করে সুখে-দুঃখে মানুষ তাঁকেই স্মরণ করেন।
আর এখন মুজিববর্ষ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার অসহায় মানুষের জন্য ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প করে নিরলস ভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে দিয়ে বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক সরকারী কর্মকর্তা একরামুল হক চাকুরী জীবনে বিভিন্ন সরকারী মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন পদে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ-এ সচিবের দ্বায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ সময়। বিভাগীয় শহর আর উত্তরবঙ্গের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (রামেক) এর চিকিৎসা সেবার মান উন্নত হবার কারণে জটিল এবং বিভিন্ন রোগাক্রান্ত অসহায় রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলার অসহায় এবং সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের মনোভাব এমন ছিলো ‘হাঁসপাতালে হাঁরঘে একরাম আছে, সে সব ঠ্যিক করা দিবে’।
এচিন্তা থেকেই কোন প্রস্তুতি ছাড়াই এলাকার রোগীরা রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যেতেন। অনেকেই আবার জটিল রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হতেন। একরামুল হক কাজের শত ব্যস্ততার মাঝেও চেষ্টা করেছেন এলাকার রোগীরা যেন পরিপূর্ণ ভাবে চিকিৎসা সেবা পান। এমন কি অর্থাভাবে কোন অবস্থায় যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্ছিত না হন এজন্য নিজের পকেট থেকে অর্থ দিয়েছেন। একরামুল হক বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসতে হলে এলাকার মাটি-মানুষকে ভালোবাসতে হবে। সত্যিকার ভাবে দেশের জন্য কিছু করতে চাইলে স্থানীয় মানুষগুলির জন্য র্নিলোভ ভাবে কাজ করতে হবে। আমি চাইলে চাকুরির সুবাধে শহরে আরাম আয়েশে বসবাস করতে পারতাম। কিন্তু বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে আমার নাড়ীর বন্ধন। বিশেষ করে এই অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী আমার পরিবারের মতো। তাদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করি।’
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সোমবার সকালে দ্বিতীয় দফায় উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শিশাটোলা গ্রামে তিনি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেন। এর আগে শতভাগ ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের দোরগোড়ায় গিয়ে উদ্ভুত করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একরামুল হক এর সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার আলী, বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মসিউর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তিনি ঘোষনা দেন, সপ্তাহে একদিন অসহয় ও দরিদ্রদের জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ফ্রী চিকিৎসা দেওয়া হবে।
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা ৬০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ জানান, ‘বাঙ্গাবাড়ির ল্যাগা হ্যামন দরদী লোকের দরকার ছিলো। হামরা এ্যাকে পায়া খুব খুশি। হামার জন্মের পর থেকে দ্যাখছি সে মনুষের ল্যাগা ম্যালা কিছু করে।’
স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক বলেন, ‘ কর্মব্যস্তা তাকে, জনগণ থেকে কখোনোই কোন সময় দূরে রাখতে পারে নি।
চাকুরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকলেও বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছেন। শুধু বাঙ্গাবাড়ি নয়, পুরো গোমস্তাপুরের মানূষকে তিনি নিজের পরিবার মনে করেন। আর কর্মব্যস্তা থেকে অবসর নেয়ার পর এই পরিবারের সাথেই ২৪টা ঘন্টা সময় কাটান। ’
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: