ছাগলে ফসল খাওয়া নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, বিএনপিকর্মী নিহত

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:১০; আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সুজানগর উপজেলায় ছাগলে ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এরশাদ শেখ (৩৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের চরবিশ্বনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এরশাদ শেখ ওই উপজেলার চর মানিকদির গ্রামের মোয়াজ্জেম শেখের ছেলে। তিনি বিএনপিকর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তার পাশে দোকান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস পক্ষের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় মোকাই শেখ পক্ষের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বিএনপি নেতা আজম আলী বিশ্বাসের চাচাতো ভাই আক্কাছ বিশ্বাসের ছাগল মোকাই শেখের জমির ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার সন্ধ্যায় দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

রাতে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। এ সময় এরশাদ শেখ গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এরশাদ শেখকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহত এরশাদের পক্ষের লোকজন বেশ কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহতের পরিবারের দাবি আজম বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হালিম বিশ্বাস প্রকাশ্যে গুলি করে এরশাদ শেখকে হত্যা করেছে এবং তাদের পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ১০ জনকে আহত করেছেন।

অপরদিকে বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস পক্ষের লোকজনের দাবি, সংঘর্ষের পরপরই আজম আলী বিশ্বাসের মুরগির খামার এবং আক্কাছ বিশ্বাসের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

সুজানগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোয়াজ্জেম শেখ আজম আলী ও তার ছেলে হালিমসহ ১৭ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে সোমবার থানায় একটি হত্যা করেছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজম আলী, রফিক ও মামুনকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে আজম আলীর লাইসেন্সকৃত বন্দুকটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারদের দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, লাইসেন্সকৃত না-কি অবৈধ অস্ত্র দিয়ে এরশাদকে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করছে পুলিশ। এছাড়া মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top