ভেঙ্গে পড়েছে ২’শ ঘরবাড়ি

বাগমারায় সড়কের বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা | প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:১৪; আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৩৯

বন্যার পানিতে বন্দি নারী

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ-বান্দাইঘাড়া সড়কের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জায়গা ভেঙ্গে গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে উপজেলার বড়বিহারী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম নতুন ভাবে বন্যায় ডুবে গেছে।

সড়কের ছোটকয়া নামক স্থান ভেঙ্গে বিশাল আকার ধারণ করায় কয়েকটি বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। পানি প্রবেশের ধারা অব্যহত থাকায় ওই সড়কে যাতয়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। পানিতে বড়বিহানালী ও দ্বীপপুর ইউনিয়নের অন্তত দুইশত কাঁচা বাড়িঘর ধ্বসে পড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিহানালী ইউনয়নের কোহিতপাড়া, মুরারিপাড়া, কড়বিহানালী, কুলিবাড়ি, আমবাড়িয়া, মন্দিয়াল, পুর্বকান্দিসহ অনেক গ্রাম নতুন করে প্লাাবিত হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে লোকজন। বিভিন্ন কাঁচা পাকা সড়ক ডুবে পানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বানভাসীরা।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৩টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে কম বেশী ভাসলেও সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বড়বিহানালী, দ্বীপপুর, কাচারীকোয়ালীপাড়া ও ঝিকরা ইউনিয়ন। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। ইউনিয়ন গুলোতে বন্যার পানি ঢোকার কারনে সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি হুমকির মাঝে রয়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গাতে।

কয়েকটি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ৩ দিন আগে ওই সড়কে পানির মধ্যে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল এখন আর কোন ধরনের যানবহন চলছে না। বন্যায় কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

গ্রামের শিক্ষিত যুবক রিপন বলেন, ছোটকয়া নামক স্থানে সড়কের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই স্থানের আজাহার, মসলেম কালেকসহ ১০/১২ জনের বাড়ি ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিরন সকালে ওই স্থানে লোক লাগিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা যায়নি। ফলে ওই পাড়ার ২০/২৫ টি বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।

অপর দিকে কাচারী কোয়ালীপাড়া, দ্বীপপুর, সোনাডাঙ্গা, বাসুপাড়া গোবিন্দপাড়া, বড়বিহানালী, ঝিকরা, যোগীপাড়া, গনিপুর, শুভডাঙ্গা, যোগীপাড়া ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নতুন ভাবে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।

নতুন নুতন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে রান্নার জায়গা না থাকায় অনেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

এবারের বন্যায় কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেননি উপজেলা প্রশাসন। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

এলাকার বানভাসীদের অভিযোগ বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার পরেও উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি। তারা রান্নার অভাবে অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সাংসদের প্রেস সচিব জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী কাল বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন ও বানভাসী মানুষদের মাঝে ত্রান বিতরন করবেন। যার কারনেই দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে বানভাসীদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন।

বড়বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন জানান, গত কয়েকদিনের বর্ষন ও বন্যায় ইউনিয়নের সবগুলো গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। এই ইউনিয়নের সাড়ে চার হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় চার হাজার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ জানান, ক্ষতির পরিমান নির্ধারনের জন্য স্ব স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই ক্ষতির পরিমান ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগগ্রস্তদের সরকারী ভাবে সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি জানান।

কাফি/০২



বিষয়: বাগমারা


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top