পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

রফিকুল আলম রঞ্জু, পাবনা | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬ ১৯:৪৮; আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ২১:২২

সংগৃহীত

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক পাঠদান কৌশল আয়ত্তকরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উদ্যোগে দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের আলহাজ আছির উদ্দিন সরদার অডিটরিয়ামে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক, পাবনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক রশিদুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, পেডাগজি বিষয়ক পিএইচডি গবেষক শরীফুল ইসলাম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন এবং উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে একজন শিক্ষককে কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান প্রদান করলেই চলবে না; শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার আগ্রহ সৃষ্টি করতে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে।
পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ হলো শিক্ষক। শিক্ষকের জ্ঞান, দক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতা শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদেরও নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নতুন নতুন পাঠদান কৌশল সম্পর্কে জানতে পারেন, যা শ্রেণিকক্ষকে আরও প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলে।

সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাদান একটি চলমান শেখার প্রক্রিয়া। শিক্ষক নিজেও একজন শিক্ষার্থী। তাই নতুন নতুন শিক্ষণ কৌশল, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষকদের সবসময় সচেতন থাকতে হবে। এতে পাঠদান আরও আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ হবে।
সহযোগী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক ও অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য শিক্ষকদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করবে, চিন্তা করবে এবং নিজেরাই শেখার সুযোগ পাবে।

পাবনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক রশিদুল হাসান বলেন, কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পাঠ পরিকল্পনা, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। একজন শিক্ষক যত বেশি প্রস্তুত ও দক্ষ হবেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল তত বেশি উন্নত হবে।

পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ হলো শিক্ষক। শিক্ষকের জ্ঞান, দক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতা শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদেরও নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নতুন নতুন পাঠদান কৌশল সম্পর্কে জানতে পারেন, যা শ্রেণিকক্ষকে আরও প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলে।

পেডাগজি বিষয়ক পিএইচডি গবেষক শরীফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীর মনোজগৎকে বুঝতে পারা। শিক্ষার্থীদের বয়স, মানসিক বিকাশ, আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান পরিচালনা করলে শেখার ফলাফল অনেক বেশি ইতিবাচক হয়। তিনি পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষণ কৌশল, শিখনফল অর্জন এবং মূল্যায়নের বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর। দক্ষ শিক্ষকই পারে একটি প্রতিষ্ঠানকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, শিখনফলভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রেণিকক্ষে আরও কার্যকরভাবে পাঠদান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী কর্মশালাটি প্রাণবন্ত আলোচনা, মতবিনিময় এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে প্রতিফলিত হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top