চিকুনগুনিয়ার প্রথম টিকাকে অনুমোদন দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

রাজ টাইমস ডেস্ক : | প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৩; আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪ ০৯:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে আসতে চলেছে বিশ্বের প্রথম 'চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন'। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর পাশাপাশি এখন থাবা বসাচ্ছে চিকুনগুনিয়াও।

আগামী দিনে কোভিডের মতোই গোটা বিশ্বে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এই ভাইরাসঘটিত রোগ। এতদিন চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করার মতো কোনও অস্ত্রই ছিল না চিকিৎসকদের হাতে। তাই এবার চিকুনগুনিয়ার প্রথম টিকাকে অনুমোদন দিল ইউনাইটেড স্টেটস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।

মার্কিন ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি চিকুনগুনিয়াকে "বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য উদীয়মান হুমকি" হিসাবে চিহ্নিত করার পরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 'ইক্সচিক' নামের এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। এফডিএ অনুসারে, কোম্পানিটি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য টিকা তৈরির অনুমোদন পেয়েছে, এটি এমন একটি বয়স গোষ্ঠী যারা এক্সপোজারের উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।

'ইক্সচিক'- এর একটি একক ডোজ দেওয়া হয়, ভ্যাকসিনের জন্য আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করে এতে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরই একটি লাইভ সংস্করণ রয়েছে এই ভ্যাকসিনে । অনুমোদনের আগে, এই ভ্যাকসিনের দুটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়েছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলিতে মোট ৩৫০০ জন অংশ নিয়েছিলেন।

অংশগ্রহণকারীদের উপর পরিচালিত দুটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেশি এবং জয়েন্টে ব্যথা, জ্বর এবং বমি বমি ভাবের মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে । ১.৬ শতাংশ প্রাপকদের মধ্যে গুরুতর প্রতিক্রিয়া রিপোর্ট করা হয়েছে, দুটি ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় । ভালনেভা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) এর কাছে অনুমোদনের জন্য একটি আবেদনও জমা দিয়েছেন।

ইউএস এফডিএ গ্রিনলাইট ভ্যাকসিনের মোতায়েনকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব দেশে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে সেখানে। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অত্যন্ত জ্বর আসে। এছাড়া থাকে গাঁটে গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা। আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশেই এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়।

প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। এফডিএ চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছে, গত ১৫ বছরে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ কয়েক মাস বা এমনকি বছর ধরে চলতে পারে, যদিও মৃত্যু বিরল। বর্তমানে চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, ব্যথা এবং জ্বর উপশমের ওষুধগুলি সাধারণ উপায়। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছিল মশার কামড় এড়ানো।

সিনিয়র এফডিএ কর্মকর্তা পিটার মার্কস একটি বিবৃতিতে এই রোগের তীব্রতার উপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে যাঁরা প্রবীণ এবং চিকিৎসাধীন । তাঁর মতে টিকার অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, ১৯৫২ সালে তানজানিয়ায় প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল চিকুনগুনিয়া। পরে ১১০ টিরও বেশি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: livemint



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top