হলুদ খাওয়া কি নিরাপদ?

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:০০; আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২২ ০৩:৩৯

মসলাজাতীয় ফসলের তালিকায় শীর্ষ ব্যবহারযোগ্য ফসলের মধ্যে হলুদ অন্যতম। কাঁচা হলুদ থেকে শুরু করে গুঁড়া হলুদের ব্যবহার ব্যাপক। নিত্য খাবার ব্যঞ্জনের রঙ করার উদ্দেশ্যেই প্রধানত এর ব্যবহার হয়ে থাকে তা নয়। শারীরিক প্রয়োজনেও হলুদের ব্যবহার হয়ে থাকে। শুধুমাত্র হলুদ দিয়েই রোগ নিরাময়ে বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্ভব।

তাই যুগ যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে অনেক রোগের চিকিত্সায় পথ্য হিসেবে চিকিৎসকেরা হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। হলুদের স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই কম-বেশি জানি। কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে হলুদের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে জানি কি? আসুন জেনে নেওয়া যাক...

১) গর্ভাবস্থায় কিংবা স্তন্যদানের সময় অত্যধিক হলুদ খাওয়ার ফলে যে কোনো গুরুতর সমস্যা হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও এই সময় খাবারে স্বল্প পরিমাণে হলুদ খাওয়াই নিরাপদ। কেন না এর অত্যধিক গ্রহণের ফলে গর্ভস্থ সন্তানের সমস্যা হতেই পারে। তাই হলুদের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং খাবারে কি পরিমাণ হলুদ গ্রহণ করবেন সেটি অবশ্যই তার থেকে পরামর্শ করে জেনে নিন।

২) হলুদ রক্তকে তরল করে দিতে সহায়তা করে। এটি একাধারে যেমন ভাল, অন্যদিকে অত্যন্ত খারাপ। কেননা হঠাৎ যদি কোন রক্ত ক্ষরণ কিংবা সার্জারি হয় সে ক্ষেত্রে হলুদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কারণ হলুদ রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না। যার ফলে কোন যদি রক্তক্ষরণজনিত ব্যাধি হয় সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও কোনরকম অপারেশন হলে সে ক্ষেত্রে তার দু তিন সপ্তাহের মধ্যে হলুদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

৩) অত্যধিক হলুদের ব্যবহার কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। হলুদে ২% অক্সলেট থাকে। যা অতিমাত্রায় গ্রহণের ফলে কিডনিতে পাথরের মতন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই অত্যধিক হলুদ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী হলুদ গ্রহণ করুন।

৪) দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে হলুদ খেলে ডায়েরিয়া, হজমের সমস্যা, গা বমি বমি ভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫) অতিরিক্ত হলুদ খেলে এলার্জি সমস্যা দেখা যেতে পারে। হয়তো তরকারিতে হলুদ খেলে সেটা বোঝা যাবে না কিন্তু যদি কাঁচা হলুদ খাওয়া শুরু করেন সেক্ষেত্রে অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয় অর্থাৎ শরীর তা নিতে পারেনা। তাই হলুদ খাওয়া শুরু করার পর যদি এরূপ কোন সমস্যা হয় তাহলে সাথে সাথেই হলুদ খাওয়া বন্ধ করুন।

৬) সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় হলুদ খেলে তা নানা ধরনের ওষুধের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিজ্ঞানীরা হলুদে থাকা কারকিউমিনকে অস্থায়ী, প্রতিক্রিয়াশীল যৌগ বলে ব্যখ্যা করেছেন। তাই, অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন এবং কিছু স্টেরয়েডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে হলুদ।

৭) অতিরিক্ত মাত্রায় হলুদ খেলে তা কেমোথেরাপির প্রভাব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যাঁদের কেমোথেরাপি চলছে, তাঁদের হলুদ না খাওয়াই ভাল।

এছাড়াও লিভারে যাদের সমস্যা আছে বা লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হলুদ খাবেন। বেশি হলুদ গ্রহণ তাদের জন্য ক্ষতিকর। ল্যাক্টোস ইনটলারেন্ট হলে দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে দুধ বাদ দিয়ে মধু, সয়া দুধ অথবা শুধু হলুদ অল্প পরিমাণে খাওয়া যাবে। দুরারোগ্য কোনো লিভারের অসুখ হলে হলুদ যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ত্বকে সহ্য না হলে হলুদের ব্যবহার বাদ দিন। একাধারে দীর্ঘদিন কাঁচা হলুদ না খেয়ে মাঝে মধ্যে বিরতি দিতে হবে। পরিমাণমতো হলুদ খেতে হবে। অতিরিক্ত হলুদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

আবু সুফিয়ান



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top