নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ভাসিয়ে দিচ্ছে ভারত

রাজটাইমস ডেস্ক:  | প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১২; আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৪৩

- ছবি - ইন্টারনেট

মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী দাবি করেছেন, দিল্লি থেকে আটক করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর লাইফজ্যাকেট দিয়ে তাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

তথ্য বলছে, মিয়ানমারে বর্তমানে গৃহযুদ্ধ চলেছে। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ এবং জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিরোধ চলছে। এই কারণে রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছে। তাদের অনেকেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

নুরুল আমিন নামের এক যুবক তার ভাইদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর খবর পেয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তার ভাই খাইরুলসহ চারজন ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত থেকে মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারে তাদের জীবন আজ অনিশ্চিত, যেখানে যুদ্ধ চলছে।

৪০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দিল্লির বিভিন্ন থানায় ডেকে পাঠানো হয়, পরে তারা ইন্দরলোক থেকে আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষার পর তাদের হিন্দন বিমানবন্দর থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাসে করে নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের গায়ে লেখা ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’।

নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় প্রায় ১৪ ঘণ্টা। সেখানে তাদের মারধর এবং অপমানের শিকার হতে হয়। অনেককেই চড় মেরে আহত করা হয়। তাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢাকা অবস্থায় রাখা হয়। কয়েকজনকে ধর্মান্তর ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

পরবর্তীতে ছোট রাবারের নৌকায় তুলে দিয়ে তাদের সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, কিন্তু আসলে তারা মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। স্থানীয় জেলেরা ভোরে তাদের উদ্ধার করে এবং বাহটু আর্মি নামে প্রতিরোধ গোষ্ঠী তাদের আশ্রয় দেয়।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মুখে ফেলেছে। ভারতীয় মিশনের কাছে তিনি প্রমাণ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।

ভারতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা অনুযায়ী ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত, তবে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে বর্তমানে সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

রোহিঙ্গাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত। অনেকেই বাসা থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। নুরুল আমিন বলেন, ‘ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে।’

রোহিঙ্গারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে যেন তাদের নির্বাসন বন্ধ করা হয় এবং ফেরত পাঠানো থেকে বিরত রাখা হয়। তবে বিচারপতির এক পর্যায়ে অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। মামলার শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র: বিবিসি



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top