রাজশাহীর নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান
কৃষিঋণ সুদ মওকুফসহ পদ্মা ব্যারেজ নির্মানের প্রতিশ্রুতি
শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:১৩; আপডেট: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:১৪
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফসহ পদ্মাপাড়ের মানুষের জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। আর ব্যারেজ নির্মিত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুফল মিলবে। পাশাপাশি রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রসা ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য প্রদান করেন। এর আগে তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রাজশাহী পৌঁছান। এর পরে প্রথমে নগরীর দরগাপাড়ায় হজরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুর ২টায় রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন তিনি।
জনসভায় রাজশাহীর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেন। সমাবেশে তিনি জেলার বিএনপি মনোনীত মোট ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সমাবেশ শেষে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের মানুষের জন্য কার্যকর কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল। অথচ বর্তমানে সেই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাজশাহী বললেই কোনটা বুঝায়। পদ্মা নদী, পদ্মা নদী? কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এইযে পদ্মায় বলেন, তিস্তায় বলেন, ব্রহ্মপুত্রই বলেন, যেই নদী বলেন পানি আছে? কোন পানি নাই। পদ্মা সাথে যে খালগুলো সেগুলোতে কোন পানি আছে? কোন পানি নাই। এরপরে আসেন রাজশাহী বললে কি বোঝায়? শিক্ষানগরী তাইতো? শিক্ষানগরী বোঝায়। এই নগরীতে বহু শিক্ষিত উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে বহু মানুষ আজকে কর্মসংস্থান অভাবে ঘরে বসে আছে। এখানে আইটি পার্ক করেছে। কিন্তু কোন কাজ হয় না। আইটি পার্কে হয় কোন কাজ? কোন কাজ হয় না। এখন এই বিষয়গুলো আমাদেরকে নজর দিতে হবে তাই না? আমাদের নদীতে পানি দরকার। কেন পানি দরকার; এই রাজশাহীসহ এই বিভাগটা এই বিভাগে এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এই বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যের দ্বিগুণ উৎপাদন করে দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন করে। এখন সেই বরেন্দ্র প্রকল্প প্রায় আজ বন্ধ অবস্থা। তিনি বলেন, রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও জানান তিনি। এ সময় উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজশাহীসহ পুরো অঞ্চলের প্রতিটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার রাজনীতি চায় না।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সকাল থেকেই রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। মাদ্রসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় মাঠটি সাজানো হয়। দুপুরের পর তারেক রহমান জনসভাস্থলে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীদের স্লোগান ও করতালিতে মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তিনি মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এই জনসভা উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির সাংগঠনিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি ২০০৪ সালে সর্বশেষ রাজশাহী সফর করেছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: