খোলাসা হতে পারে দ্রুতই

ড. মোমেনের গন্তব্য, নানা জল্পনা

ডেস্ক নিউজ | প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:২১; আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৭:৪৬

ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন। নিয়েছেন চিকিৎসকের পরামর্শ। অসুস্থতায় বিমান ভ্রমণে সমস্যার বিষয়টিও সামনে এসেছে তবুও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে নিয়ে আলোচনা থামছে না।

 সূত্র: মানব জমিন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই বিশেষ এবং স্পর্শকাতর। সে দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। সরকারের ভেতরে-বাইরে অনেক প্রশ্ন। কী ঘটছে ড. মোমেনের ভাগ্যে। তিনি কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন? এ ঘটনার পর তার দায়িত্ব পালনে কি কোনো অস্বস্তি তৈরি হবে? গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন। জবাবে কাদের বলেন, ‘‘একে আব্দুল মোমেনের মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার কেবলই প্রধানমন্ত্রীর।’’ গেল মাসে চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার তা করতে তিনি ভারত সরকারকে অনুরোধ করে এসেছেন। ঠিক এই মন্তব্যই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর থেকে মোমেনের বাদ পড়ার পেছনে মূল কারণ নাও হতে পারে বলে মনে করেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন এমন কোনো কথা নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন এসেছেন তখন কি তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তো মানুষ, একজন মানুষ অসুস্থও হতে পারেন। ড. মোমেনের ওই বক্তব্যের পরপরই অবশ্য তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার ওই বক্তব্য নাকচ করেন। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান দাবি করেন, ড. মোমেন আওয়ামী লীগের কেউ নন। যদিও তখন দেখা যায়, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে তার পদ রয়েছে অনেকদিন থেকেই। ড. মোমেনের মন্তব্য ঢাকা এবং দিল্লি উভয়ের জন্যই অস্বস্তি তৈরি করে- এমন আলোচনাও রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকও তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের মন্তব্যের কারণেই এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। এর ব্যাখ্যায় ড. রাজ্জাক বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি কিছু কথাবার্তা বলেছিলেন এবং তা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ভারত সরকারও ভালোভাবে নেয়নি বলে শুনেছি। আমাদেরও দলীয়ভাবে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা বাস্তব এবং সত্য। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসুস্থতার কথাও তারা শুনেছেন। অসুস্থ হলে তিনি নাও যেতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন? এ ব্যাপারে ড. রাজ্জাক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে যদি সেভাবে গাইড করেন তাহলে সমস্যা হবে না। সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী দিল্লিগামী বিমান ঢাকা ছাড়ার পরই এটা প্রকাশ্যে আসে যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশেই আছেন। যদিও আগের দিন সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি নিজেও দিল্লি যাবেন সেটা নিশ্চিত করেন। কিন্তু কেন তিনি দিল্লি যাননি সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে তিনি অসুস্থতার জন্য দিল্লি যেতে পারেননি এমনটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে না।

আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কি ঠিক সফরের আগ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়েছে। নাকি আগে থেকেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত ছিল। সূত্র বলছে, দিল্লিগামী বিমানের সিটপ্ল্যানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য কোনো আসন নির্ধারিত ছিল না। অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, কূটনীতি বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিটি শব্দই উচ্চারণ করতে হয় সতর্কতার সঙ্গে। দাড়ি, কমা, সেমিকোলনের রয়েছে নিজস্ব অর্থ। চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যই প্রথম নয়। ড. মোমেন এর আগেও দফায় দফায় বিতর্ক তৈরি করেন তার দেয়া নানা বক্তব্যে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে তার দেয়া একটি বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। এর আগে গুম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন মন্ত্রী। বলেছিলেন, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান গুমের তালিকায় যে লোকজনের নাম দিয়েছিল তাদের অনেকের ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আসল কারণ নয়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই অনেক দেশ গুমের প্রসঙ্গটি সামনে এনে চাপ প্রয়োগ করে স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

ড. মোমেন অবশ্য তার এসব বক্তব্যের দায় কখনো কখনো দিয়েছেন সাংবাদিকদের। আবার কখনো বলেছেন, ‘‘আমি খোলামেলা মানুষ। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি যেটা মনে করি, সেটা খোলামেলা বলে ফেলি। আমার দল থেকে আমাকে ইয়ে করেছেন। পজিশনে থেকে ভালো কথা বলা দরকার।’’ তবে দল সতর্ক করার পরও ড. মোমেন যে সতর্ক হননি তাতো ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আওয়ামী লীগ যে বিব্রত তাতো স্পষ্টই। দলের বেশ কয়েকজন নেতা সম্প্রতি এ নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলেছেন। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ কী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। তারা মনে করেন, বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতত দলে এবং সরকারে ড. মোমেনের অবস্থান খুব একটা শক্ত নয়। তবে অতীতে দেখা গেছে, অনেকেই আবার পুরনো অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। অনেককে আবার পদ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। সরকারের মেয়াদও রয়েছে আর দেড় বছরের মতো। সময় খুব দীর্ঘ না হলেও এ সময়ে সরকারকে নানা কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড. একে আব্দুল মোমেন কি সম্মুখ সারিতে থাকবেন? নাকি তাকে ছাড়াই এগিয়ে যাবে সরকার। সবকিছু খোলাসা হতে পারে দ্রুতই।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top