ভাগ্যে কী আছে বিএনপির ৩০০ নেতার

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৪ ২১:০০; আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪ ১৯:০৭

ছবি : ফাইল

দীর্ঘদিন চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকারবিরোধী আন্দোলনে। এই আন্দোলনকে ঘিরে নানা কারণে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে এখন পর্যন্ত সাত শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারাও রয়েছেন। বহিষ্কার হওয়া এসব নেতারা এবার ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চান।

এরই মধ্যে ক্ষমা চেয়ে অন্তত তিনশজন আবেদন করেছে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে। আবেদনের পর এখন পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে মাত্র ২০ জনের। বাকিদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে অনড় হাইকমান্ড।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষমা না পেয়ে কেউ কেউ একাধিকবার আবেদনও করেছেন। ঘুরছেন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে।

তবে কোনো সংকেত না মিললেও বিএনপির কর্মসূচিতে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের অনেকেই অংশ নিচ্ছেন।

ক্ষমা না করার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, বেশ কয়েকজন একাধিকবার আবেদন করলেও স্থানীয় গ্রুপিং-দ্বন্দ্বের কারণে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আবার ঢালাওভাবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলে দলে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়তে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বহিষ্কৃত নেতাদের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির অন্তত পাঁচশ পদধারী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে অংশ নেওয়া কয়েকশ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতাকেও বহিষ্কার ও দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিট কমিটির বিরোধিতা, স্থানীয় বিরোধ, বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের অনেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চেয়ে সক্রিয় হওয়া, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও স্বপদে পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেছেন। যা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পড়ে আছে বছরের পর বছর। বেশ কয়েকজনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে মহাসচিব, কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতাদের সুপারিশ থাকলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শক্তি হারাচ্ছে বিএনপি- এমনটাই বলেছেন তৃণমূলের নেতারা।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এর মধ্যে দুজন ছাড়া কেউ বিজয়ী হতে পারেননি। ফলে বাকিদের কেউ কেউ বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়েছে ২০৪ নেতাকে।

প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বহিষ্কার হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সাবেক মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সারকে আজীবন বহিষ্কার করে দলটি।

২০২১ সালে খুলনা মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে।

তৈমূর আলম, মঞ্জু, সাক্কুসহ ডজনখানেক প্রভাবশালী নেতা দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন ঝুলে থাকায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘তৃণমূল বিএনপি’-তে যোগ দেন তৈমূর আলম খন্দকার।




বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top