রক্তাক্ত ৩৫ জুলাই: একদিন এগিয়ে আনা হয় ‘মার্চ টু ঢাকা’

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৭; আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১৩:২৫

ছবি: সংগৃহীত

আজ ৪ আগষ্ট। জুলাই আন্দোলনের হিসেবে এই দিনটিকে ‘৩৫ জুলাই’ বলা হয়। ২০২৪ সালের এই দিনে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সংঘর্ষে পুরো দেশ যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ। চলমান আন্দোলনকে ‘জঙ্গি হামলা’ বলে আখ্যায়িত করে তৎকালীন সরকার। কিন্তু এতে আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি। বরং ঘোষণা আসে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির।

গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে রাজধানী ঢাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এত প্রাণহানি ও রক্তপাত স্বাধীন বাংলাদেশ আগে দেখেনি। ততক্ষণে স্বৈরাচার পতনের শেষ অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে। আর শেষ মুহূর্তে মরণ কামড় দিতে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করে সরকার ও পেটোয়া বাহিনী।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযানে ৪ আগস্ট নিহত হন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে এবং তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

সেদিন প্রথমে ৬ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ৫ আগস্টের জন্য রাখা হয় তুলনামূলক কম কর্মসূচি। তবে সমন্বয়করা পরে জানান, ৫ আগস্ট বড় কর্মসূচি না থাকায় সরকার ওই দিনই আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তাদের দাবি, একদিন সময় পেলে সরকার ৫ আগস্ট বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারত। বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ বলেন, ‘প্রথমে ৬ আগস্ট কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে আমাদের বক্তব্য ছিল, মানুষ এর মধ্যেই রাজপথে নেমে এসেছে।

তখন কিছুটা সংশয় ছিল, এত দ্রুত মানুষকে আবার নামানো যাবে কি না। আমরা বলেছিলাম, সবাই সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। এরপর সবাই আত্মবিশ্বাস পায় এবং ৫ আগস্ট কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।’



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top