দাবি মানায় ৮ ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার রাবি শিক্ষার্থীদের
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৬:২৭; আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭
রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। পরে প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
ভুক্তভোগী ফুরকান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ফুরকানের অভিযোগ, সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে তিনি দেখেন, কয়েকজন টিটিই যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করছেন। এর প্রতিবাদ করলে ৬-৭ জন টিটিই তাকে জোর করে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ঘাড় ও পিঠে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত চশমাও ভেঙে যায়।
ফুরকান উদ্দিন বলেন, “রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখে আমি প্রতিবাদ করি। এরপর তারা আমাকে ধরে নিয়ে মারধর করে। জানালার ধারে নিয়ে ধাক্কা দেয়। আমি পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করলে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— অভিযুক্ত টিটিইকে শিক্ষার্থীদের সামনে এনে জবাবদিহির আওতায় আনা, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। অবরোধস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার। এছাড়া ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে গভীর রাতে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু এবং আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনায় আরেকটি সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: