যুবকদের হাতে সার্টিফিকেট, অনুদান নয় কর্মসংস্থান চান: ইমাজ উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০২; আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ২০:২২

ছবি: রাজ টাইমস

যুবকদের হাতে সার্টিফিকেট রয়েছে, তাই অনুদান নয়, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল। তিনি বলেন, যুবকদের কাজের সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে  আলুপট্টিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগ, রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্ণহার থানা যুব বিভাগের সভাপতি সারোয়ার জাহানের সঞ্চালনায় ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে জাতিসংঘ ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।এ দিবসের লক্ষ্য হলো কোনো যুবক কর্মহীন বা বেকার থাকবে না এবং যুবসমাজ চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও টেন্ডারবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না। অথচ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের যেন চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজিই তাদের উপার্জনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর যুবকদের চাঁদাবাজির ওপর নির্ভর করতে হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুবসমাজকে চাঁদাবাজি থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ক্ষমতায় আসার পরও আপনাদের দলের লোকজন কেন এখনো চাঁদাবাজিতে লিপ্ত? আপনারা কি তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেন না?

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সরকারের কাছে ভিক্ষা চায় না। যুবকদের হাতে সার্টিফিকেট রয়েছে, তাদের প্রয়োজন কর্মসংস্থান। তাই অনুদান নয়, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। তাদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

যুবসমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের নেশায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের যথেষ্ট মাথাব্যথা নেই। তাই যুবসমাজকে অঙ্গীকার করতে হবে—যেখানেই মাদক, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক যুব দিবসের কথা মনে হলে যুবকদের ভবিষ্যৎ ও দায়িত্বের কথা মনে পড়ে। বাংলাদেশের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে মাদক অন্যতম। মাদকের থাবায় আজকের যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, যুবকদের সামাজিক, আইনি, চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যারা আগামী দিনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, তাদের সৃজনশীলতা ও ডিজিটাল দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। অথচ বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালন করছে না। কারণ যুব দিবস পালন করলে যুবসমাজের অধিকার ও সমস্যার কথা বলতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো, তারা এসব বিষয়কে ভয় করে।

সালাউদ্দিন আরও বলেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ। এই মানবসম্পদ ধ্বংস হয়ে গেলে সামাজিকভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবে। তাই যুবসমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

কোটা বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। কমিটির নামে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আমরা দেখতে চাই না। কমিটির মাধ্যমে কোনো নিয়োগও হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী নিয়োগগুলোও আরও সুষ্ঠুভাবে দিতে হবে। সরকার চাইলে এনটিআরসিএকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্য হলে একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেমন শেখ হাসিনাকে বিদায় করা হয়েছিল, তেমনি বর্তমান সরকারকেও সেই পথে যেতে হতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, মতিহার থানা সভাপতি আফজাল হোসেনসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে বিকেলে নগরীর আলুপট্টি থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top